ভূতের ভয় কাটাতে শুরু হয় মোটরকালীর পুজো
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

গোপাল সূত্রধর, বালুরঘাট: বালুরঘাটের বাসস্ট্যান্ড এলাকার মোটরকালীর পুজো শহরের শতাব্দী প্রাচীন কালী পুজো। এক সময় এই এলাকা একেবারে শুনশান ছিল। কাজ করত ভূতের ভয়। ভূতের আতঙ্ক কাটাতে বালুরঘাট শহরে বাসস্টান্ড চত্বরে কালী পুজো শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে এলাকায় জনবসতি বাড়ে। পুজো আজও চলছে। কষ্টি পাথরের এই কালী মূর্তির পুজোতে শহরের বহু ভক্ত ভিড় জমান। দীর্ঘদিন ধরে এই পুজো বালুরঘাট বাসস্টান্ডের মালিক ও শ্রমিকরা আয়োজন করেন। এবারও শুরু হয়েছে পুজোর প্রস্তুতি। বালুরঘাট মোটর কালী পুজো কমিটির সম্পাদক মানস চৌধুরী বলেন, এই পুজো বহু বছর আগে শুরু হয়েছিল। ঠিক কত বছর আগে, তা সঠিক ভাবে বলা মুশকিল। প্রাচীন কাল থেকে যেভাবে পুজো হয়ে আসছে এবছরও একই নিয়ম নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো হবে। তন্ত্র মতে এই পুজো করা হয়। মাকে এখানে বোয়াল মাছের ভোগ দেওয়ার রীতি রয়েছে। 

Advertisement

কেন এই ভূতের আতঙ্ক? শহরের প্রবীণ মানুষদের কথায়, বর্তমান বালুরঘাট শহরের বড়বাজার সংলগ্ন এলাকার এই জায়গাটির নাম আগে ছিল ফটিকগঞ্জ। সেখানে সপ্তাহে একদিন ফটিকগঞ্জের হাট বসত। এছাড়াও বর্তমান বালুরঘাট হাইস্কুলের কাছে একটি হাসপাতাল ছিল। যার কিছুটা দূরে ছিল সেই হাসপাতালের মর্গ। যা লোকমুখে মরা কাটা ঘর বা লাশকাটা ঘর বলে প্রচলিত ছিল। পরবর্তীতে রঘুনাথপুর এলাকায় জেলা হাসপাতাল ও মর্গ সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
কিন্তু পরিত্যক্ত মর্গ ও মৃতদেহ বহনকারী গাড়ি থেকে ভূতের আতঙ্ক ছড়িয়ে যায়। হাটের দিনগুলি ছাড়া সাধারণ মানুষ সেই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে পারত না। মানুষের মন থেকে সেই ভয় দূর করতে ওই এলাকায় একটি কষ্টি পাথরের মূর্তি স্থাপন করা হয়। যেহেতু বাসস্টান্ড এলাকায় ওই মূর্তিটি স্থাপন করা হয়েছিল তাই এটি মোটরকালী নামে পরিচিতি লাভ করে।
সেই মূর্তিরও রয়েছে নানা ইতিহাস। কষ্টি পাথরের এই মা কালীর মূর্তি কুমারগঞ্জ ব্লকের বরাহার জমিদারি বাড়ির। বহু বছর আগে সেই বাড়ি থেকে কষ্টি পাথরের মূর্তিটি চুরি হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে মূর্তিটি পাওয়া যায় মর্গের পাশে আত্রেয়ী খাঁড়িতে। সেখান থেকে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় মর্গের পাশে সেই কষ্টি পাথরের মূর্তিটি বসিয়ে পূজো শুরু হয়।
পুজোর আরও মাহাত্ম্য রয়েছে। মন্দিরের পুজোর জন্য আত্রেয়ী খাঁড়িতে ঘাটপুজো দিতে হয়। কথিত আছে যে, যেখানে ঘাটকালির পূজো দেওয়া হয় সেখানকার জল কখনও শুকোয় না। বর্তমানে এই মন্দির সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। পুজোর সময় বহু দূর থেকে মানুষ এই মন্দিরে ভিড় জমান। • নিজস্ব চিত্র।