আমেদাবাদ: বয়স মাত্র আট মাস। দুনিয়া বলতে মা’কেই বোঝে। মায়ের কাছেও সন্তানই সবকিছু। তার জন্য জীবন দিতেও দুবার ভাবতে হয় না। কথার কথা নয়, বাস্তবে তা করেও দেখালেন মহিলা। আমেদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার পর কোনওক্রমে দুধের শিশুকে বাঁচিয়েছিলেন মণীষা। কিন্তু ঝলসে যাওয়া শিশুকে সুস্থ করে তোলা একেবারেই সহজ কাজ ছিল না চিকিৎসকদের কাছে। শেষপর্যন্ত নিজের ত্বক দান করে সন্তানের জীবনরক্ষা করলেন মণীষা।
গত ১২ জুন আমেদাবাদের বিজে মেডিক্যাল হস্টেলে আছড়ে পড়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার লন্ডনগামী বিমান। মৃত্যু হয় ২৭৪ জনের। আহত হয়েছিল সংলগ্ন এলাকার আরও অনেকে। তাদের মধ্যেই ছিলেন মণীষা। তাঁর স্বামী কপিল বিজে মেডিক্যাল কলেজের এমসিএইচ ছাত্র। ঘটনার সময় কপিল হাসপাতালে ছিলেন। বাড়িতে সন্তান ধ্যানশের সঙ্গে ছিলেন মণীষা। বিমানটি ভেঙে পড়ে তাঁদের আবাসনের কাছেই। মুহূর্তে আগুন ধরে যায় এলাকায়। প্রাণ বাঁচাতে সবাই যে যার মতো দৌড় শুরু করে। মণীষা দু’হাতে নিজের সন্তানকে আগলে ধরে বেরিয়ে আসেন।
সন্তান সহ মণীষাকে নিয়ে যাওয়া হয় আমেদাবাদের কেডি হাসপাতালে। দু’জনেই মারাত্মক আহত হয়েছিলেন। মণীষার শরীর ২৫ শতাংশ আর ধ্যানশের শরীর ৩৬ শতাংশ পুড়েছে। সাধারণত সঠিক চিকিৎসা হলে এই জখম সারানো সম্ভব। বিশেষ করে রোগীর বয়স যদি বেশি হয়। কিন্তু আটমাসের ধ্যানশ কীভাবে সুস্থ হবে? ছেলের বিপদ শুনে আবার এগিয়ে আসেন মণীষা। চিকিৎসকদের অনুরোধ করেন, তাঁর চামড়া নিয়ে ধ্যানশের দেহে প্রতিস্থাপন করা হোক। বিষয়টা মোটেও সহজ নয়। কিন্তু উন্নত চিকিৎসা বিজ্ঞান আর দক্ষ চিকিৎসকদের পারদর্শীতায় তা সম্ভব হয়। মণীষার শরীর থেকে চামড়া তুলে ধ্যানশের শরীরে বসানো হয়। প্রতিস্থাপন সফল হয়েছে বলেই জানান, প্লাস্টিক সার্জেন ডাঃ পারিখ। অবশেষে গত সপ্তাহে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে মা-ছেলে। দু’জনেই আপাতত সুস্থ, দাবি চিকিৎসকদের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টা নিয়ে উৎফুল্ল। মনে করা হচ্ছে, বিমান দুর্ঘটনায় জীবিতদের মধ্যে ধ্যানশই সর্বকনিষ্ঠ।