Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিষ্ণুপুরে আয়কাতদের পুজোয় সপ্তমীর স্নানের পর মাকে দেওয়া হয় চা, বিস্কুট

বিষ্ণুপুরে আয়কাতদের পুজোয় সপ্তমীর স্নানের পর মাকে দেওয়া হয় চা, বিস্কুট

বিষ্ণুপুরে আয়কাতদের পুজোয় সপ্তমীর স্নানের পর মাকে দেওয়া হয় চা, বিস্কুট
  • ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

উজ্জ্বল পাল, বিষ্ণুপুর: বর্গি হানার জেরে মৃৎশিল্পীরা ভয়ে প্রতিমা গড়তে আসেননি। তাই মল্লরাজার পরামর্শে পটেইশুরু হয়েছিল পুজো। সেই থেকে কয়েকশো বছর ধরে বিষ্ণুপুরের আয়কাত পরিবারে আজও পটেই হয় মা দুর্গার আরাধনা। শহরের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে আয়কাতদের তিনটি পরিবার রয়েছে। তাঁরা এখনও পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য বজায় রেখেইএই পুজো টিকিয়ে রেখেছেন। তৎকালীন ঠাকুরদালানে মল্লরাজাদের মতো বলি নারায়ণী প্রথা মেনে পটে পুজো হয়। এই পুজোর বড় চমক, মাকে সপ্তমীতে স্নানের পর চা, বিস্কুট দিতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এটাই রেওয়াজ। 

Advertisement

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এই আয়কাত পরিবারের পুর্বপুরুষ মূলত পার্সি ছিলেন। একসময় মল্লগড়ে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল। ওই সময় এক পূর্বপুরুষ মল্লরাজাকে আয়ের উৎস এবং কর আদায়ের ব্যাপারে সাহায্য করেছিলেন। সেই সুবাদে মল্লরাজা তাঁকে বিষ্ণুপুর, সোনামুখী ও ছাতনায় কয়েকশো বিঘা জমি দান করেছিলেন। বিষ্ণুপুরে বাস করার পর তিনি পুজো আরম্ভ করেছিলেন। প্রথমে এখানে মূর্তি পুজো চালু থাকলেও বিষ্ণুপুরে বর্গি হানার সময় মৃৎশিল্পীরা ভয়ে প্রতিমা গড়তে আসেননি। তাই পুজো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। ওই সময় মল্লরাজার পরামর্শে পটে আঁকা দেবীর পুজো শুরু হয়। সেই থেকে আজও পটেই পুজো হয়ে আসছে। 
পরিবারের সদস্য সুপর্ণা আয়কাত বলেন, আমাদের নিজস্ব পুজোর একটা  আলাদা মহিমা আছে। পুজোর সময় আত্মীয়, পরিজন ও বন্ধু বান্ধবীরা আসেন। সবার সঙ্গে পুজোটা দারুণ উপভোগ করি। 
পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বলেন, আমরা মূলত পার্সি ও কায়স্থ পরিবার। মল্লরাজাদের আয় এবং কর দেখাশুনার জন্য আমাদের পদবী ‘আয়কাত’ হয়ে যায়। বর্তমানে আমাদের তিনটি পরিবার বিষ্ণুপুরে থাকে। বাকিরা দেশে ও বিদেশে ছড়িয়ে রয়েছেন। রাজাদের দেওয়া জমি এখন আর আমাদের দখলে নেই। তাই খুব বেশি আড়ম্বর না থাকলেও পুজোর নিষ্ঠায় ত্রুটি থাকে না। ঐতিহ্য বজায় রাখতে সবাই মিলে আজও এই পুজো চালিয়ে যাচ্ছি। 
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মল্লরাজাদের পটের পুজো ছাড়াও বিষ্ণুপুর শহরের হাজরাপাড়ায় আয়কাতদের পরিবারেপ্রাচীন পটেই পুজো হয়। তবে তার প্রচার খুব বেশি না থাকলেও আয়কাতদের বসবাসের জন্য ওই এলাকাটি আয়কাত ডাঙা নামে পরিচিত। আয়কাতদের বাড়ির পুজোয় পট আঁকেন মুরলী কর্মকার। ঘাটালের এক পুরোহিত পুজো করেন। সপ্তমীর দিন পোকাঁবাধে ঘটে জল এনে মাকে স্নান করানো হয়। তারপর ৮টি পানের উপর সুপারি দিয়ে মাকে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর চা ও বিস্কুট দেওয়া হয় মাকে। দুপুরে পঞ্চব্যাঞ্জন এবং তিনদিন ধরে চ্যাং মাছের ঝোল দেওয়া হয় ভোগে। পরিবারের সদস্যরা বলেন, চা বিস্কুট না দিলে ফুল চড়ানো হলেও তা পড়ে না।   

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ