নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বসিরহাট: দাম্পত্য কলহের জেরে সাত মাসের কন্যাসন্তানকে আছাড় মেরে নদীতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হিঙ্গলগঞ্জের ছোট সাহেবখালি এলাকায়। যদিও স্থানীয়দের চেষ্টায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে ওই একরত্তি। তাঁরাই শিশুটিকে গৃহবধূর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হাতে তুলে দেন। প্রাথমিকভাবে পুলিসের অনুমান, মহিলার মানসিক সমস্যা রয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত মহিলাকে আটক করেছে পুলিস।
বছর দুয়েক আগে পরিবারের অমতেই হিঙ্গলগঞ্জ থানার স্বরূপকাঠি গ্রামের বাসিন্দা রাম মণ্ডল ভালোবেসে শিবানীকে (দু’জনের নামই পরিবর্তিত) বিয়ে করেন। তাঁদের সাত মাসের এক মেয়ে রয়েছে। রবিবার রাতে রাম ও শিবানীর মধ্যে সাংসারিক ঝামেলাকে ঘিরে তুমুল অশান্তি হয়। অভিযোগ, কন্যাসন্তান হওয়ার পর থেকেই স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি চলছিল। সম্প্রতি তা চরমে উঠেছিল। এর মধ্যেই সোমবার সন্ধ্যায় মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে আচমকা শ্বশুরবাড়ি থেকে বেরিয়ে দুলদুলিতে বাপের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন শিবানী। কিন্তু, সেখানে যাওয়ার বদলে সটান চলে যান সাহেবখালি নদীর এমএলএ স্কুলের ফেরিঘাটে। সেখানে মেয়েকে রাস্তায় শুইয়ে রেখে এক কোণে চুপ করে বসেছিলেন তিনি। এই দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান স্থানীয় লোকজন। কেন তিনি শিশুটিকে এভাবে রাস্তায় ফেলে রেখেছেন, জানতে চাইলে বেরিয়ে আসে আসল রহস্য। মহিলা বলেন, নিজের মেয়েকে মেরে ফেলতেই তিনি এখানে নিয়ে এসেছেন। ওর জন্যই গঞ্জনা শুনতে হয় দিনরাত। এভাবে ওর বেঁচে থেকে কী লাভ? এরপরই মহিলাকে ঘিরে ভিড় বাড়তে শুরু করে। গ্রামের মহিলারা শিশুটিকে কোলে তুলে নেন। এ নিয়ে যখন জটলা চলছে, তখন ভিড়ের মাঝে শিবানী তাঁর মেয়েকে ওই মহিলাদের কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে আছাড় মারার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের তৎপরতায় রক্ষা পায় একরত্তি শিশুটি। পরে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন মহিলা নিজেও। স্থানীয় লোকজনই তাঁকে জল থেকে তুলে আনেন।
এনিয়ে দুলদুলি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান চঞ্চল মণ্ডল বলেন, ওই মহিলা বলছিলেন, বাচ্চাটি মরে গেলেই ভালো! কিংবা যাঁদের সন্তান নেই, তাঁদের তিনি দিয়ে দেবেন। তাঁর কথা শুনে মনে হয়েছে, মানসিক সমস্যা আছে। এরপর তাঁর স্বামী ও শ্বশুর এসে শিশুকন্যাকে বাড়ি নিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিস এসে মহিলাকে আটক করে নিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, পারিবারিক বিবাদের জেরে গত শনিবার হাসনাবাদের ইছাপুর গ্রামে চারমাসের পুত্র সন্তানকে আছাড় মেরে খুনের অভিযোগ উঠেছিল মায়ের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় শিশুর বাবা ও মাকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এমন ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।