সংবাদদাতা, বহরমপুর: সুরক্ষার প্রশ্নে কাঠগড়ায় মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসা করাতে এসে টাকা, গয়না সহ সর্বস্ব খোয়ালেন মা, ছেলে। পরিচিতির বাহানায় ঠান্ডা পানীয়ের সঙ্গে মাদক মিশিয়ে অচৈতন্য করে নগদ টাকা ও সোনার গয়না নিয়ে চম্পট দিল এক দুষ্কৃতী। শনিবার গভীর রাতে লুটমারির এই ঘটনা ঘটে। রবিবার সকালে মা, ছেলেকে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে বিশ্রামাগারের অন্যান্যরা দু’জনকে হাসপাতালে ভরতি করেন। মায়ের সংজ্ঞা ফিরলেও রবিবার বিকেল পর্যন্ত ছেলের সংজ্ঞা ফেরেনি বলেই হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়ানোর পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর আত্মীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রশ্ন রয়েছে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও। মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ অনাদি রায়চৌধুরী বলেন, এমন হওয়ার কথা নয়। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা বারবার রোগীর আত্মীয়দের অপরিচিত কারও কাছ থেকে কোনো খাবার না খাওয়ার জন্য সচেতন করে আসছি। কিন্তু মানুষের হুঁশ ফিরছে না। বহরমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে ওই পরিবার। তদন্তের জন্য সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। বেলডাঙা ব্লকের নওদার বাসিন্দা ওই মা, ছেলে হলেন অমিয় বিশ্বাস ও অঞ্জুশ্রী বিশ্বাস। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল ৯টা নাগাদ অমিয় সন্তানসম্ভবা স্ত্রী প্রিয়াকে মাতৃ মায়ে ভরতি করান। রাতে মা ও ছেলে দু›জনে মাতৃ মা সংলগ্ন শেডের নিচে বিছানা করে শুয়েছিলেন। পাশেই নওদা ব্লকের সর্বাঙ্গপুরের আর এক রোগীর আত্মীয়ও ছিলেন। শবরী মণ্ডল নামে ওই মহিলা বলেন, রাত দেড়টা নাগাদ একজনকে তিনটে ফ্রুটির প্যাকেট নিয়ে আসতে দেখি। রাত ২টো নাগাদ মা, ছেলেকে ফ্রুটির প্যাকেট দিতে দেখি। এরপর মাইকে আমার নাম ডাকায় আমি উঠে যাই। ফিরে এসে দেখি দু’জনেই ঘুমোচ্ছেন। রবিবার সকালে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসে। বড়ঞা ব্লকের রামেশ্বরপুরের বাসিন্দা হেমন্ত বাগদি বলেন, সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত দু’জনকে ঘুমোতে দেখে সন্দেহ হয়। দু’জনকে ডেকেও কোনো সাড়া মেলেনি। শারীরিক দুর্বলতা অনুমান করে অমিয়বাবুকে ওআরএস খাওয়াতে ওঁর রক্তবমি শুরু হয়। এরপর আরও কয়েকজন মিলে ওই দু’জনকে আমরা হাসপাতালে ভরতি করি। খবর পেয়ে রবিবার সকালে অমিয়বাবুর শ্বশুর, শাশুড়ি সহ অন্য আত্মীয়রা ঘটনাস্থলে চলে আসেন। তাঁদের দাবি, নগদ ৩৮ হাজার টাকা সহ অঞ্জুশ্রীদেবীর কানের দুল ও হাতের সোনার আঙটি খোয়া গিয়েছে। সোনার গয়নার মূল্য প্রায় এক লাখ টাকা। অমিয় বিশ্বাসের শ্বশুর লব মণ্ডল বলেন, এত বড়ো মেডিকেল কলেজ। কিন্তু সুরক্ষা কোথায়? এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে শুনেছি।



