Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাড়ির পাশে দাঁড়ানো বাইকে গাড়ির ধাক্কা, মৃত্যু মা-শিশুর

পুজোর বাজার সেরে বাড়ির সংলগ্ন রাস্তার পাশে বাইক নিয়ে দাঁ঩ড়িয়েছিলেন। আর তখনই বেপরোয়া গতিয়ে আসা একটি গাড়ি ধাক্কা মারে। তাতে মৃত্যু হল মা ও তাঁর শিশুপুত্রের।

বাড়ির পাশে দাঁড়ানো বাইকে গাড়ির ধাক্কা, মৃত্যু মা-শিশুর
  • ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তেহট্ট: পুজোর বাজার সেরে বাড়ির সংলগ্ন রাস্তার পাশে বাইক নিয়ে দাঁ঩ড়িয়েছিলেন। আর তখনই বেপরোয়া গতিয়ে আসা একটি গাড়ি ধাক্কা মারে। তাতে মৃত্যু হল মা ও তাঁর শিশুপুত্রের। জখম হয়েছেন মহিলার স্বামী সহ ওই গাড়িতে থাকা পাঁচজন। ঘটনাস্থলেই মারা যান সঞ্চিতা ঘোষ (৩২) ও পাঁচ বছরের সন্তান প্রীতম। বৃহস্পতিবার রাতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয় তেহট্ট থানার বেতাই সাধু বাজার এলাকায়। বেতাই পলাশী রাজ্য সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান এলাকার মানুষ। জখম পাঁচ জনকে উদ্ধার করে পুলিশ। ঘাতক গাড়িটিকে আটক কর হয়। প্রায়  ঘন্টা  দু’য়েক রাস্তা অবরোধ থাকে। পরে, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। উদ্ধার পাঁচ জনকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে পুলিশ। অশোক কুমার রায় নামে গাড়ি চালককে গ্রেপ্তার  করেছে পুলিশ। তিনি তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেতাই বাজার থেকে পুজোর বাজার সেরে  বাড়ির কাছে রাস্তার পাশে এসে বাইক নিয়ে দাঁড়ায় সাধুবাজারের বাসিন্দা উত্তম ঘোষ। সঙ্গে ছিল তার স্ত্রী সঞ্চিতা ও পাঁচ বছরের ছেলে প্রীতম। তবে তাঁদের বড় মেয়ে বাড়িতেই ছিল।  আচমকা শ্যামনগরের দিক থেকে আসা একটি ছোট গাড়ি মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণে হারিয়ে তাঁদের ধাক্কা মেরে প্রায় একশো মিটার দূরে গিয়ে খাদে উল্টে যায়। বিকট শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে চলে আসেন। জানা গিয়েছে, উত্তম বাইকের পাশেই পড়ে গিয়েছিল। আর তাঁর স্ত্রী ও ছেলে গাড়ির ধাক্কায় ছিটকে যায়। শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে জানান। কিন্তু তখনও পর্যন্ত সঞ্চিতাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। 
ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা এগিয়ে রাজ্য সড়কের পাশে রয়েছে একটি পুকুর। কোথাও খুঁজে না পেয়ে পুকুরে চলে তল্লাশি। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই পুকুর থেকে উদ্ধার হয় সঞ্চিতার দেহ। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালে। যদিও সেখানে নিয়ে গেলে  চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান। এই ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। জানা গিয়েছে , ঘাতক গাড়িতে ছিল পাঁচজন। ওই পাঁচ জনের মধ্যে তিনজন যুবক ও দুজন তরুণী। তাদের মধ্যে এক তরুণী জানান, তাঁরা বেথুয়াডহরির দিক থেকে ইলশামারি যাচ্ছিল। 
তাঁরা আহত অবস্থায় খাদ থেকে কোনওরকমে বেরিয়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। ততক্ষণে সেখানে পুলিশ পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে। উত্তেজনা সামাল দিতে ঘটনাস্থলে চলে আসেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) উত্তম ঘোষ, এসডিপিও (তেহট্ট) শুভতোষ সরকার, তেহট্ট মহকুমার বিভিন্ন থানার ওসি সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ