নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মালদহের মোথাবাড়িতে এসআইআরের কাজে গিয়ে হেনস্তার মুখে পড়েন বিচারকরা। তাঁদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সেই ঘটনায় মঙ্গলবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে চার্জশিট জমা দিল এনআইএ। তাতে মূল অভিযুক্ত মোফাক্কেরুলসহ ৩১ জনের নাম রয়েছে। ১২টি মামলার মধ্যে চারটির চার্জশিট জমা পড়েছে এদিন। সকলের বিরুদ্ধে জাতীয় সড়ক আটকে অবরোধ, বিচারকদের হেনস্তা, গাড়ি ভাঙচুরসহ একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
চার্জশিটে এনআইএ জানিয়েছে, মালদেহ মোথাবাড়িতে ভোটার তালিকা সংশোধনে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন বিচারকরা। তাঁদের আটকে রাখে স্থানীয় জনতা। এমনকি খাবার-জল পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। বিচারকরা বেরোলে তাঁদের পিছু ধাওয়া করে উন্মত্ত জনতা। রাস্তায় বাঁশ ফেলে অবরোধ করে রাখা হয়। বিচারকদের গাড়ি ধাওয়া করা বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল বাঁশ লাঠি, লোহার রড। তাঁদের গাড়ির কাচ ভাঙচুর করে অভিযুক্তরা। চার্জশিটে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এজেন্সি মোফাক্কারুলকে মূল পরিকল্পনকারী হিসাবে দেখিয়েছে। তাঁর নেতৃত্বেই আন্দোলন সংগঠিত হয়। তিনি উসকানি দেন সেখানে আসা বাসিন্দাদের। তাঁর মদতে বিক্ষোভে অংশগ্রহকারীরা বিচারকদের গাড়ি ধাওয়া করে। মোফাক্কেরুল সকলকে বলেছিলেন, বাঁশ, লাঠি নিয়ে আসতে। বিচারকরা যাতে বেরোতে না পারেন সেই নির্দেশ দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীদের। অনেক আগে থেকেই পুরো পরিকল্পনা করা হয়।
চার্জশিটে আরো বলা হয়েছে, প্রথমে জেলা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে তদন্তভার নেয় কেন্দ্রীয় এজেন্সি। মোথাবাড়ি, কালিয়াচক থানা মিলিয়ে হওয়া ১২টি এফআইআরের তদন্ত তারা শুরু করে তারা। তার মধ্যে চারটি মামলার চার্জশিট তারা জমা দিল। বাকিগুলির চার্জশিটও খুব শীঘ্রই জমা পড়ার কথা রয়েছে। কিছুদিন আগেই সুপ্রিম কোর্ট মোথাবাড়ি কাণ্ডের তদন্ত দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেয়। আগামী দুমাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট জমা দিতে হবে জানিয়েছিল দেশের শীর্ষ আদালত।