Bartaman Logo
২৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জল নামার পর আজ ফের চালু হচ্ছে হলদিয়ার সিংহভাগ স্কুল

হলদিয়ার জলমগ্ন এলাকাগুলি থেকে জল নেমে যাওয়ার পর আজ, সোমবার থেকে পুনরায় সিংহভাগ স্কুল চালু হচ্ছে। এজন্য শনি ও রবিবার দু’দিন ধরে স্কুলগুলিতে স্যানিটাইজেশন করা হয়।

জল নামার পর আজ ফের চালু হচ্ছে হলদিয়ার সিংহভাগ স্কুল
  • ২৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, হলদিয়া: হলদিয়ার জলমগ্ন এলাকাগুলি থেকে জল নেমে যাওয়ার পর আজ, সোমবার থেকে পুনরায় সিংহভাগ স্কুল চালু হচ্ছে। এজন্য শনি ও রবিবার দু’দিন ধরে স্কুলগুলিতে স্যানিটাইজেশন করা হয়। কোথাও পুরসভার সাফাইকর্মীরা, কোথাও স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজেরাই স্কুল সাফাইয়ের কাজে নেমেছেন। সোম ও মঙ্গলবার দু’দিন ধরে একাদশ শ্রেণির অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের নথি পরীক্ষার শেষ পর্ব রয়েছে। এজন্য উচ্চমাধ্যমিক স্কুল কর্তৃপক্ষ যেকোনো মূল্যেই স্কুল চালু করতে চাইছে। গত কয়েকদিন ধরে একাদশের পড়ুয়াদের মেসেজ করে বার্তা দিয়েছে স্কুলগুলি। অতিবৃষ্টিতে জলমগ্ন হওয়ায় ১৩ আগস্ট থেকে গত ১০দিন ধরে হলদিয়া পুরসভা ও লাগোয়া সুতাহাটা ও হলদিয়া ব্লকের বেশিরভাগ স্কুল বন্ধ ছিল। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও প্রাথমিক মিলিয়ে শতাধিক স্কুল জলে ডুবে যায়, বন্ধ হয় পঠনপাঠন। নীচু এলাকাগুলিতে স্কুল চত্বরে কোথাও এক কোমর অব্দি জল ছিল। বহু স্কুলের নীচতলার ক্লাসরুম, অফিস ঘর জলের তলায় চলে যায়। একদিকে স্কুল জলের তলায়, অন্যদিকে পড়ুয়ারা জলবন্দি হয়ে পড়ে। শহর থেকে গ্রাম সিংহভাগ জায়গায় মূল রাস্তাগুলি ডুবে ছিল গত এক সপ্তাহ ধরে। এই পরিস্থিতিতে হলদিয়ার পৌর পাঠভবন সহ বেশ কয়েকটি শহরের স্কুল অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে পঠনপাঠন চালু রেখেছিল। কিন্তু জলমগ্ন হওয়ার কারণে শহর ও গ্রামের বহু এলাকা বিদ্যুৎহীন থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কের খুব সমস্যা ছিল। ফলে অনলাইন ক্লাস কোনোভাবেই সম্ভব হয়নি। তাছাড়া ছাত্রছাত্রীদের অনেকেই ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেওয়ায় পঠনপাঠন লাটে ওঠে।

Advertisement

একদিকে শহর ও গ্রামের বহু স্কুল জলমগ্ন ছিল, অন্যদিকে, ত্রাণ শিবির থাকায় স্কুল বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। হলদিয়া পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, জল নেমে যাওয়ায় সমস্ত ত্রাণ শিবির বন্ধ করা হয়েছে। পুর এলাকার ত্রাণ শিবিরে থাকা প্রায় ১২০০ পরিবারের হাতে ত্রাণের কিট দেওয়া হচ্ছে। পুর এলাকার ১৯টি সরকারি উচ্চমাধ্যমিক স্কুল সোমবার থেকে পুরোদমে চালু হচ্ছে। পুরসভা বেশকিছু স্কুল স্যানিটাইজ করেছে। চুন, ব্লিচিং ছড়িয়ে, মশানাশক স্প্রে করেছে। সাফাইকর্মীরা এজন্য দিনভর পরিশ্রম করছেন। জল সরে যাওয়ার পর দিনে নালা নর্দমার পচা জিনিস সরাচ্ছে, বিকেলে স্যানিটাইজ করছে এলাকা। পরাণচক হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রাণনাথ শেঠ বলেন, হলদিয়া জলমগ্ন হওয়ায় পড়াশোনার দারুণ ক্ষতি হল। সেপ্টেম্বর মাসে মাঝামাঝি সেমেস্টার, তার আগে পাঠক্রম শেষ না হলে পড়ুয়াদের সমস্যা হবে। এজন্য দ্রুত স্কুল চালু করতে চাইছে সবাই। তাছাড়া একাদশ শ্রেণির অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের শেষবারের চেকিং হবে। কোনো ছাত্র যাতে সমস্যায় না পড়ে, সেজন্য হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আগাম মেসেজ দেওয়া হচ্ছে বার বার। হলদিয়ার রানিচক বিবেকানন্দ বিদ্যাভবন গভর্নমেন্ট স্পনসর্ড হাইস্কুলের শিক্ষক সৌমিত্র চৌধুরি বলেন, দু’দিন ধরে ভালভাবে স্কুলের সমস্ত রুম পরিষ্কার করা হয়েছে। সুতাহাটা ও হলদিয়া ব্লকের ২৫টি হাইস্কুলও খুলছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। সুতাহাটা ব্লকের বিডিও সৌরভ মাজি বলেন, এখনো কিছু স্কুল এলাকায় জল রয়েছে। তবে রাস্তার জল নেমে গিয়েছে। প্রায় ৪০০ পরিবারের হাতে ত্রাণের কিট দেওয়া হচ্ছে।  হলদিয়া শহরে জল নেমে যাওয়ার পর সরকারি স্কুল স্যানিটাইজ করছেন পুর কর্মীরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ