Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অধিকাংশ থানার গাড়ির মেয়াদ শেষ, নতুন বাহন কেনার প্রস্তাব দিল নবান্ন

অধিকাংশ থানার গাড়ির মেয়াদ শেষ, নতুন বাহন কেনার প্রস্তাব দিল নবান্ন
  • ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শওকত কাণ্ডের পর ঘুম ছুটেছে রাজ্য পুলিশের অফিসারদের। বিভিন্ন জেলায় থাকা পাইলট কার এবং থানার গাড়ির বেশিরভাগের মেয়াদ ১৫ বছর পেরিয়ে গিয়েছে। রেজিস্ট্রেশন ফেল করা গাড়ি দৌড়চ্ছে রাস্তায়। শওকত মোল্লার পাইলট কার দুর্ঘটনার পর, রাজ্য পুলিশে মেয়াদ উত্তীর্ণ গাড়ির সংখ্যা কত সেই তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে সব জেলায়। এই গাড়িগুলির বদল চেয়ে নবান্নে প্রস্তাব যাচ্ছে।

Advertisement

রাজ্য পুলিশে মোট থানার সংখ্যা ৫৮৬। নিজস্ব ও ভাড়ার গাড়ি মিলিয়ে রাজ্য পুলিশে প্রায় ১২ হাজার গাড়ি চলে। এর মধ্যে পাঁচ-সাত হাজার নিজস্ব গড়ি রয়েছে পুলিশের। কমিশনারেট ও লাগোয়া জেলা বাদ দিলে বেশিরভাগ থানাতেই গা঩ড়ির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। রাজ্য পুলিশ সূত্রের খবর, এলাকায় টহলদারি ভ্যান, অভিযুক্তদের আদালতে আনা-নেওয়া, গোলমালের সময় ফোর্স পাঠানোর জন্য প্রতিটি থানায় সাকুল্যে দু-তিনটি নিজস্ব গাড়ি রয়েছে। এর বাইরে বেশিরভাগ গাড়িই ভাড়ায় নেওয়া। কমিশনারেট এলাকায় গাড়ির অবস্থা তুলনামূলক ভালো হলেও দূরের জেলাগুলিতে গাড়ির হাল যাকে বলে লজ্‌ঝড়ে। মাধেমধ্যে রাস্তাতেই ‘দেহ’ রাখছে সেগুলি। থানার গাড়ি ছাড়াও ভিভিআইপি, ভিআইপিদের পাইলট করার জন্য প্রতিটি জেলায় আলাদা পাইলট কার রয়েছে। রাজ্য পুলিশ সূত্রের খবর, থানার গাড়ি ও পাইলট কারের ৭০ শতাংশের মেয়াদই ১৫ বছর পেরিয়ে গিয়েছে। প্রাইভেট নম্বরের গাড়ি হওয়ায় নিয়মের গেরোয় আটকে গিয়েছে সিএফ। এই কারণে এই গড়িগুলি দিয়েই কাজ চালাতে হচ্ছে। নবান্ন সূত্রের খবর, ২০২১ সালে পুলিশ আধুনিকীকরণ প্রকল্পের টাকায় শেষবার গাড়ি কিনেছিল রাজ্য পুলিশ। ওই গাড়ি বিভিন্ন জেলায় দেওয়া হয়েছিল। সূত্রের খবর, ২০২১ সালে যখন নতুন গাড়ি কেনা হয়েছিল তখনই বেশিরভাগ থানার গাড়ি ও পাইলট কারের বয়স ১৫ পেরিয়ে গিয়েছিল। যত সংখ্যক গাড়ি কেনা হয়েছিল তাই দিয়ে সমস্ত জেলায় গাড়ি বদল করা সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়েই ১৫ বছর পেরিয়ে যাওয়ায় গাড়ি দিয়ে পাইলট বা থানায় টহলদারি, অভিযুক্তদের আনা-নেওয়া করা বা ফোর্স ছেড়ে আসার কাজ করানো হচ্ছে। এই চারবছরে আরও কিছু গাড়ির বয়স ১৫ বছর হয়ে গিয়েছে। নবান্নের কাছে আসা তথ্য অনুযায়ী, সাড়ে তিনশোর বেশি থানায় মেয়াদ উত্তীর্ণ গাড়িই চলছে। তবে প্রশাসনিক কর্তাদের চিন্তা পাইলট কারগুলি নিয়ে। কারণ, আর মাসকয়েক বাদেই বিধানসভা নির্বাচন। জেলা বা রাজ্য ছাড়া বাইরে থেকে ভিআইপি, ভিভিআইপিরা আসবেন। তাঁদের পাইলট দিতে হবে। এই অবস্থায় কোনও অঘটন ঘটে গেলে তার দায়িত্ব নেবে কে? এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে অফিসারদের মাথায়। এই কারণেই তড়িঘড়ি পাইলট কার বদলে নতুন গাড়ি কেনার জন্য নবান্নে প্রস্তাব যাচ্ছে। তবে এখনই নতুন গাড়ি কেনা সম্ভব না-হলে ভাড়ার গাড়ি দিয়েই পাইলট করার ভাবনাচিন্তা চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ