পশ্চিম বর্ধমান জেলার ১২টি পঞ্চায়েতের অধিকাংশ জমি ইসিএলের, রামজি প্রকল্পের কাজে হোঁচট
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন(গ্রামীণ) সংক্ষেপে ভিবি জি রামজি প্রকল্পের কাজে গতি আনতে হিমশিম খাচ্ছে পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসন। লক্ষ্যমাত্রার ধারেকাছেও নেই কাজের গতি। দফায় দফায় বৈঠক করে সমস্যাগুলি চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসন। 

Advertisement

জেলার সবচেয়ে বড় সমস্যা প্রকল্প বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত জমি পাওয়া যাচ্ছে না। জেলায় ৬২টি গ্রাম পঞ্চায়েত। তারমধ্যে ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বেশিরভাগ জমিই রয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা ইসিএলের অধীনে। পুকুর কাটা হোক বা বাগান করা কিংবা বনসৃজন—সবকিছুর জন্য চাই জমি। কিন্তু এইসব পঞ্চায়েত এলাায় ফাঁকা খাস জমি মিলছে না। তাতেই থমকে যাচ্ছে কাজ। জমি-জট কাটাতে ইসিএলেরকে চিঠি দিতে চলেছেন জেলাশাসক পোন্নামবলম এস। যাতে ভিবি জি রামজি প্রকল্পের কাজে কেন্দ্রীয় সংস্থা এনওসি দেওয়ার ব্যবস্থা করে। 
পশ্চিম বর্ধমান শহরকেন্দ্রিক জেলা। সেই কারণেও ফাঁকা জমির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আসানসোল ও দুর্গাপুরের মতো মেগা শহর লাগোয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা গুলি দ্রুতগতিতে নগরায়ন হচ্ছে। বহুতল আবাসন, স্মার্ট টাউনশিপ গড়ে উঠছে। ফাঁকা জমির সন্ধান মিলছে না। গোপালপুর, জেমুয়া, রূপনারায়ণপুর, হরিপুর, অণ্ডাল, পাঁচ গাছিয়া সহ ১২টি পঞ্চায়েত শহরের রূপ নিয়েছে। অথচ খাতায় কলমে এখনও গ্রামের ‘স্ট্যাটাস’ বজায় রয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখানেও এই গ্রামীণ প্রকল্পের কাজ হওয়ার কথা। তা করতে গিয়েও সমস্যায় পড়ছেন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। একদিকে সেখানে মানুষের দিনমজুরি করার চাহিদাও কম। অন্য দিকে ফাঁকা জমি না পাওয়ায় বড় প্রজেক্টও হাতে নেওয়া যাচ্ছে না। 
এই অবস্থায় ‘অমৃত সরোবর’-এর উপরই আস্থা রাখছে জেলা প্রশাসন। জানা গিয়েছে, প্রতি ব্লকে একটি করে এই বিশাল সরোবর নির্মাণ করতে চাইছে তারা। ন্যূনতম এক একর জায়গার উপর এই সরোবর গড়ে উঠবে। এতে একদিকে যেমন বহু কর্মদিবস সৃষ্টি হবে তেমনি সরকারি স্থায়ী সম্পদ তৈরি হবে। শুধু অমৃত সরোবরই নয়, এগ্রি ইরিগেশনকে এই কাজে যুক্ত করে তাঁদের মধ্যেও পুকুর খনন প্রকল্পের কাজ জব কার্ড হোল্ডারদের নিয়ে করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩৩ লক্ষ কর্মদিবস সৃষ্টির টার্গেট দেওয়া হয়েছে। এখন যা পরিস্থিতি তাতে প্রতিদিন ২৫ হাজার কর্মদিবস সৃষ্টি করলে টার্গেট ছোঁয়া সম্ভব। এখন প্রতিদিন ৩ হাজার মানুষকে কাজ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষকে একদিনে কাজ দিয়ে দশ হাজার কর্মদিবস দিনে সৃষ্টি করতে গ্রামীণ এলাকায় মাইকিং ও পাড়া বৈঠক করা হচ্ছে। 
জেলাশাসক পোন্নমবলম এস বলেন, ‘এই প্রকল্পে কাজের গতি বাড়াতে সব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জমির জন্য ইসিএলকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। অমৃত সরোবর গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’