নয়াদিল্লি: পাঠ্যবইয়ে বিচারব্যবস্থা নিয়ে মন্তব্য থেকে মহেঞ্জোদরোর নৃত্যরতা মূর্তি ঢেকে দেওয়া, সম্প্রতি একের পর এক বিতর্কে শিরোনামে উঠে এসেছে এনসিইআরটি (ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং)। অন্যদিকে দ্বাদশের ফল প্রকাশ নিয়ে ক্ষোভের মুখে পড়েছিল সিবিএসই (সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন)। এবার সামনে এলো কেন্দ্রীয় শিক্ষাদপ্তরের দুই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার কর্মী-সংকট।
লোকসভায় পেশ হওয়া সংসদীয় কমিটির রিপোর্টে উঠে এসেছে, এনসিইআরটির পঞ্চাশ শতাংশের বেশি পদ খালি রয়েছে। অন্যদিকে সিবিএসই-তে ৪৪ শতাংশের বেশি শূন্যপদ পূরণ করা হয়নি। সম্প্রতি সংসদের কমিটি অব এসটিমেটসের দশম রিপোর্টে (২০২৬-২৭) এই তথ্য ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসের তথ্য অনুযায়ী, এনসিইআরটি-র মোট ২ হাজার ৮৪৪ পদের মধ্যে ১ হাজার ৯৬টি পদই খালি। কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১ হাজার ২৪৮ জন। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, লোকবলের অভাব সরাসরি প্রভাব ফেলছে জাতীয় শিক্ষানীতি লাগু করার ক্ষেত্রে। পাশাপাশি সিবিএসই-তে ২ হাজার ১১৭ টি পদের মধ্যে ৯৩৩টিই খালি । শুধুমাত্র গ্রুপ সি-তেই পদ খালি রয়েছে ৫৯৫টি। সংকট ঠেকাতে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে সিবিএসই। এমনকি পরীক্ষার মতো সংবেদনশীল বিষয়েরও দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে এই চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের উপর।
এদিকে গত বুধবার সংসদে পেশ হওয়া কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (ক্যাগ) রিপোর্টে উঠে এসেছে , কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের অধীনে থাকা স্বশাসিত সংস্থাগুলি (সিএবি) তাঁদের বরাদ্দের সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যবহারই করেনি। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে এই ১৯৮টি স্বশাসিত সংস্থাগুলির জন্য মোট ১ লক্ষ ১৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। যার মধ্যে ৪৮.৪৩ শতাংশ দেওয়া হয়েছিল শিক্ষামন্ত্রকের পক্ষ থেকে। মোট ৫৪ হাজার ৭৩২ কোটি ১৬ লক্ষ টাকার মধ্যে ৪ হাজার ৫৫৩ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা ব্যবহার করা হয়নি।