Bartaman Logo
১৮ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রাজ্যের অর্ধেকের বেশি বুথই অতি-স্পর্শকাতর! সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মুর্শিদাবাদে

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনি ইতিহাসে প্রথমবার! অর্ধেকেরও বেশি বুথকে অতি-স্পর্শকাতর ধরে রাজ্যে ভোট করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, এবার রাজ্যে প্রায় ৫১ শতাংশ বুথই অতি-স্পর্শকাতরের তকমা পেয়েছে।

রাজ্যের অর্ধেকের বেশি বুথই অতি-স্পর্শকাতর! সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মুর্শিদাবাদে
  • ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:০৪
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনি ইতিহাসে প্রথমবার! অর্ধেকেরও বেশি বুথকে অতি-স্পর্শকাতর ধরে রাজ্যে ভোট করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, এবার রাজ্যে প্রায় ৫১ শতাংশ বুথই অতি-স্পর্শকাতরের তকমা পেয়েছে। আর সেই মতোই নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজিয়ে ফেলেছেন জ্ঞানেশ কুমার, মনোজ আগরওয়ালরা। ২৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, অ্যান্টি বুলেট ভ্যান, ক্যামেরা লাগানো বিশেষ টহলদারি গাড়ি, ড্রোন! কী নেই? এক কথায় পশ্চিমবঙ্গ যেন ছোটোখোটো একটি যুদ্ধক্ষেত্র!

Advertisement

বিগত বছরগুলিতে রাজ্যে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ বুথ ছিল অতি-স্পর্শকাতর। তাহলে এবার কেন সেই সংখ্যাটা কেন এতটা বেড়ে গেল? আসলে অতি-স্পর্শকাতর বুথ এতটা বৃদ্ধি পাওয়ার নেপথ্যে রয়েছে এসআইআর। জানা যাচ্ছে, যেসব বুথ থেকে ১৫০ জনের নাম বাদ পড়েছে, সেই সব বুথকেই এবার অতি-স্পর্শকাতর হিসাবে গণ্য করছে কমিশন। তাদের আশঙ্কা, যে সব বুথে ব্যাপক সংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়েছে, সেখানে ভোটের দিন বাদ পড়াদের অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ ঘটতে পারে। আর সেই কারণেই ওই সব বুথকে ‘সুপার সেনসিটিভ’ হিসাবে ধরা হয়েছে। 
ভোট ঘোষণার কিছুটা আগে থেকে রাজ্যে স্পর্শকাতর ও অতি-স্পর্শকাতর বুথ বাছার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সেক্টর অফিসারদের। তাঁদের থেকে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে দৈনন্দিন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অতীতে নির্বাচনি হিংসার ইতিহাস ঘেঁটে সাধারণত স্পর্শকাতর ও অতি-স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাজ্যে একশো শতাংশ বুথই স্পর্শকাতর। আর অর্ধেকের বেশি অতি-স্পর্শকাতর। 
তাৎপর্যপূর্ণভাবে প্রথম দফায় মুর্শিদাবাদেই রয়েছে প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি সুপার সেনসিটিভ বুথ। পাশাপাশি মালদহ এবং উত্তর দিনাজপুরেও প্রায় ৫৫ শতাংশ। কোচবিহারেও প্রায় ৪৬ শতাংশ বুথ এবার অতি-স্পর্শকাতর। তাই মুর্শিদাবাদের দু’টি পুলিশ জেলায় সব মিলিয়ে ৩১৬ কোম্পানি বাহিনী থাকছে ভোটের দিন। জঙ্গিপুর পুলিশ জেলায় থাকবে ৭৬ কোম্পানি এবং মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলায় নজরদারির দায়িত্বে ২৪০ কোম্পানি আধাসেনা। প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে সব মিলিয়ে ২৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি মোতায়েন থাকবে ৪০ হাজার ৯২৮ জন রাজ্য পুলিশ। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুর্শিদাবাদেই। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর তুলনায় তা চার ভাগের এক ভাগেরও কম।
অতি-স্পর্শকাতর বুথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জেলাগুলিকে ১১ দফা নির্দেশিকা জারি করেছে কমিশন। তাতে বলা হয়েছে, অতি-স্পর্শকাতর বুথগুলির নজরদারিতে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। একাধিক এমন বুথ রয়েছে, যেখানে অশান্তি হলে কুইক রেসপন্স টিম পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেকারণে ওই সব বুথে ভোটের সাতদিন আগে থেকে ডিএম ও এসপিরা যৌথভাবে পরিদর্শন করবেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন। ভোটের দু’দিন আগে থেকেই নিরাপত্তা পরিকল্পনা মোতাবেক নজরদারি চালাতে হবে। এইসব বুথগুলির আওতাভুক্ত এলাকায় যাতে বেআইনি অস্ত্রের প্রবেশ না ঘটতে পারে, তা সুনিশ্চিত করতে হবে। ভোটের দিন কোনো অবৈধ বাহন যাতে সংশ্লিষ্ট বুথের আওতাভুক্ত এলাকায় প্রবেশ না করে, তাও দেখতে হবে ডিএম-এসপিদের। সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গে একটি মিনি যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশ তৈরি করে এবার ভোট পরিচালনা করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ