নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরে বিপুল কার্তুজ প্রবেশে চিন্তার ভাঁজ তদন্তকারীদের কপালে। কোথা থেকে নিয়ে আসা হচ্ছিল শতাধিক কার্তুজ? আদালতে সেই উত্তর জানাল কলকাতা পুলিসের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। সোমবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হয় কার্তুজ পাচারের অভিযোগে ধৃত রামকৃষ্ণ মাঝিকে। এজলাসে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হলদিয়া থেকে বিপুল সংখ্যক কার্তুজ নিয়ে আসা হচ্ছিল। যদিও তা সরাসরি কলকাতায় প্রবেশ করেনি। হলদিয়া থেকে এই যুবক যায় উত্তর ২৪ পরগনায়। সেখান থেকে রবিবার দুপুরে বাসে চেপে ধর্মতলা বাসস্ট্যান্ডে এসে পৌঁছয় রামকৃষ্ণ। বিপুল পরিমাণ গোলাগুলি পাচারের ঘটনায় বড় রহস্যের গন্ধ পাচ্ছেন এসটিএফের অফিসাররা।
রবিবার দুপুরে ধর্মতলা বাসস্ট্যান্ড চত্বর থেকে ১২০টি কার্তুজসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। লালবাজার জানিয়েছে, ধৃতের ব্যাগ থেকে মিলেছে, ১০০টি ৮ এমএম কার্তুজ ও ২০টি ৭.৬৫ এমএম কার্তুজ। সবকটিই অটোমেটিক পিস্তলের। এমনটাই জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। পুলিস সূত্রের খবর, গত পাঁচবছরে শহরে এত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বা তার গুলি পাকড়াও হয়নি। এবছরেই শিয়ালদহ অঞ্চলে দু’বার দেশীয় ওয়ান শর্টার ও কয়েকটি কার্তুজ উদ্ধার করে এসটিএফ। কিন্তু, রবিবার শতাধিক কার্তুজ উদ্ধারে ঘুম উড়েছে লালবাজারের। স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, এই গোলাবারুদ পাচারের নেপথ্যে বড় কোনও চক্র রয়েছে। সেই চক্র হলদিয়া বন্দর এলাকায় বেশ সক্রিয় বলেই মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সেই চক্রের সঙ্গে ধৃত রামকৃষ্ণের যোগাযোগ রয়েছে। মাফিয়া যোগ রয়েছে তার সঙ্গে। জেরায় যুবক পুলিসকে জানিয়েছে, গোলাবারুদের ‘ট্রান্সপোর্টার’ হিসেবে কাজ করত সে।
হলদিয়া থেকে কার্তুজ নিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুর পৌঁছয় পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের যুবক রামকৃষ্ণ। কিন্তু, কী উদ্দেশ্য? সূত্রের খবর, ধৃত জানিয়েছে, সেখানে এক অস্ত্র কারবারিকে কিছু কার্তুজ ডেলিভারি করেছে অভিযুক্ত। কিন্তু, সেই তথ্য আদৌ সত্যি কি না, তা নিয়ে দোটানায় রয়েছে পুলিস। সরকারিভাবে তথ্যের সত্যতা স্বীকার করেনি এসটিএফ। তবে বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, ধৃতের দেওয়া তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে। অনদিকে, উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে গোলাবারুদ পাচারের কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই ১২০টি কার্তুজ কোথায় ডেলিভারির কথা ছিল? সে বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তবে তদন্তের স্বার্থে তা এখনই জানানো যাবে না বলে জানিয়েছে লালবাজার। সূত্রের দাবি, সেই সমস্ত সম্ভাব্য জায়গায় অভিযান চালানো হবে। লালবাজারের দাবি, বিচারকের নির্দেশে ৪ জুন পর্যন্ত ধৃতকে পুলিস হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী তদন্তে দ্রুত গোলাবারুদ পাচারকারী বড় চক্রের হদিশ মিলবে।