Bartaman Logo
১০ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পশ্চিম মেদিনীপুরে সাড়ে ছ’হাজারের বেশি আইসিডিএস কেন্দ্রে সরকারি অর্থ আসেনি, মিলছেই না ডিম ও সবজি

পশ্চিম মেদিনীপুরের আইসিডিএস কেন্দ্রে খাবারের বিল না আসায় শিশুদের পুষ্টি বিপন্ন। অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন। বিস্তারিত পড়ুন।

পশ্চিম মেদিনীপুরে সাড়ে ছ’হাজারের বেশি আইসিডিএস কেন্দ্রে সরকারি অর্থ আসেনি, মিলছেই না ডিম ও সবজি
  • ১০ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: আইসিডিএস কেন্দ্রে খাবারের বিলের টাকা দীর্ঘদিন ধরে না আসায় কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে ডিম ও সবজি সরবরাহ। ফলে জেলার একাধিক আইসিডিএস কেন্দ্রে শিশুদের পাতে এখন থাকছে শুধু খিচুড়ি, কখনও আবার ভাত-ডাল। পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে খুদে পড়ুয়ারা। এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভ বাড়ছে অভিভাবকদের মধ্যেও। কবে বকেয়া মিটবে, কবে ফের শিশুদের পাতে ডিম দেওয়া যাবে— সেই প্রশ্নই ঘুরছে সর্বত্র।

Advertisement

রাজ্য সরকার শিক্ষা ও শিশু পুষ্টির উন্নয়নে একাধিক প্রকল্প চালু করেছে। জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত এলাকাতেও গড়ে উঠেছে অসংখ্য আইসিডিএস কেন্দ্র। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতেই রয়েছে সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি আইসিডিএস কেন্দ্র। বহু শিশু ও গর্ভবতী-প্রসূতি মহিলা এই কেন্দ্রগুলির পরিষেবার উপর নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পরিকাঠামোগত সমস্যার পাশাপাশি এবার দেখা দিয়েছে আর্থিক সংকট। কোথাও জরাজীর্ণ ভবন, কোথাও শৌচালয়ের অভাব— তারই মধ্যে কয়েক মাস ধরে খাবারের বিলের টাকা না মেলায় চরম সমস্যায় পড়েছেন আইসিডিএস কর্মীরা। এক আইসিডিএস কর্মীর কথায়, আগে এক মাসের বিল বকেয়া থাকলেও আশপাশের দোকান থেকে বাকিতে ডিম ও সবজি এনে কোনোরকমে ব্যবস্থা করা যেত। এখন তিন থেকে চার মাসের বিল বকেয়া থাকায় আর কোনো দোকানদার বাকিতে মাল দিতে চাইছেন না। ফলে শিশুদের পুষ্টিকর খাদ্য দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছোট ছোট শিশুরাই।
আইসিডিএস কর্মী সবিতা দাস বলেন, সাড়ে তিন মাস ধরে সবজি ও ডিমের বিলের টাকা পাইনি। এতদিন নিজেদের পকেট থেকে খরচ করে কোনোরকমে চালিয়েছি। এখন আর সম্ভব হচ্ছে না। বহু জায়গায় জানিয়েও কোনও সুরাহা মেলেনি। তাই কোনোদিন শুধু খিচুড়ি, আবার কখনও শুধু ভাত-ডাল দিতে হচ্ছে।
এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে ডিম ও সবজি না পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বহু অভিভাবক। তাঁদের অভিযোগ, শিশুদের সুষম পুষ্টির কথা মাথায় রেখেই এই খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু বিলের টাকা আটকে থাকায় সেই পরিষেবাই এখন ব্যাহত হচ্ছে। মেদিনীপুরের মহকুমা শাসক মারগোব ইলমি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ