রাজ্যে এখনও হিমঘরে মজুত ৫ কোটির বেশি আলুর প্যাকেট, দুশ্চিন্তায় চাষিরা
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: রাজ্যের বিভিন্ন হিমঘরে মজুত বিপুল পরিমাণ আলুর ভবিষ্যত নিয়ে চাষি ও ব্যবসায়ীরা চিন্তায় পড়েছেন। ৩১অক্টোবরের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৫কোটি ২৩ লক্ষ ৭হাজার প্যাকেট আলু মজুত রয়েছে। গত মরশুমে রাজ্যে ১৬কোটি ১লক্ষ ৮হাজার ২৭৮ প্যাকেট আলু মজুত হয়েছিল। তার মধ্যে ১০কোটি ৭৮হাজার ৯১১প্যাকেট আলু ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত হিমঘর থেকে বের হয়েছে। চাষিরা জানান, খুব বেশি হলে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত হিমঘরে আলু রাখা যায়। এই অল্প সময়ের মধ্যে পাঁচ কোটি ২৩লক্ষের বেশি প্যাকেটের আলু বিক্রি প্রায় অসম্ভব। যদিও নভেম্বর মাসে বীজ আলু বের করা হবে। সেজন্য এমাসে তুলনামূলকভাবে বেশি আলু বেরবে।

Advertisement

কৃষিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের আলু চাষিরাও এবার ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সেকারণে এবছর জলদি জাতের আলু ওই রাজ্যে কম চাষ হয়েছে। তাতে এরাজ্যের চাষিরা কিছুটা আশার আলো দেখছেন। নতুন আলু বাজারে এলে ক্রেতারা সেটাই বেশি কেনেন। পুরনো আলুর কদর কমে যায়। তবে উত্তরপ্রদেশে চাষ কম হওয়ায় বাজারে নতুন আলুর দাম অনেক বেশি থাকবে। সেক্ষেত্রে পুরানো আলুর কদর থাকতে পারে।
তবে তাতেও সমস্যা মিটবে না বলেই অনেকে মনে করছেন। আলু চাষি বাবু দাস বলেন, এবছর সারের দাম অনেক বেড়ে গিয়েছে। সরকার ট্যাগিং বন্ধের জন্য বারবার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। কিন্তু তাতে কাজ হচ্ছে না। আমাদের অতিরিক্ত দাম দিয়ে অণুখাদ্য সহ সার কিনতে হচ্ছে। আলু চাষ করতে কালঘাম ছুটে যাচ্ছে। তার উপর প্রচুর আলু এখনও বিক্রি হয়নি।
চাষিরা জানান, পুজোর আগে ফ্রি ব্রন্ডের দাম অনেক কমে গিয়েছিল। সেই তুলনায় এখন দাম কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু তারপরও লাভের মুখ দেখা যাচ্ছে না। ডিসেম্বর মাসের পরও বহু আলু হিমঘরে থেকে যাবে। সেটা ফেলে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। কারণ পরের মরশুমের আলু রাখার জন্য হিমঘরে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করতে হয়। ওই সময় পুরনো আলু রাখা যায় না।