সংবাদদাতা, বহরমপুর: ভিনরাজ্যে বাংলা বলে হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। তাই এবার পরিযায়ী শ্রমিক তকমা ঘুচিয়ে নিজের জেলাতেই কর্মসংস্থানের চেষ্টা করছেন অনেকে। আর তাই রাজ্য সরকারের চালু করা ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্পে মুর্শিদাবাদ জেলায় ২০হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। প্রতিদিনই এই প্রকল্পের পোর্টালে আবেদন করছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। জঙ্গিপুর মহকুমায় সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে।
জেলা শ্রমদপ্তর জানিয়েছে, যাঁরা ভিনরাজ্য থেকে ফিরতে চাইছেন, তাঁদের তথ্য যাচাইয়ের পর ফেরার খরচ বাবদ পাঁচহাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। সমস্ত তথ্য যাচাইয়ের পর আবেদনপত্র গৃহীত হলে রাজ্য সরকারের ঘোষিত সুযোগ-সুবিধা মিলছে।
ভিনরাজ্যে বাংলাভাষীরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বিশেষত বিভিন্ন বিজেপিশাসিত রাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের পুলিশি হেনস্তার মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেকক্ষেত্রে ভারতের নাগরিকত্বের পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও তাঁদের অনুপ্রবেশকারী তকমা দিয়ে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করা হয়েছে। সেজন্য পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যার কথা ভেবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২১আগস্ট বিজ্ঞপ্তি জারি করে ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্প ঘোষণা করেন। তাতে বলা হয়েছিল, পরিযায়ী শ্রমিকরা ফিরে এলে তাঁদের একবছরের জন্য মাসে পাঁচহাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করবে রাজ্য সরকার। পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্যমঞ্চের রাজ্য সম্পাদক আসিফ ফারুক বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় এরাজ্য থেকে বাইরে শ্রমিক যাওয়ার ছবিটাই বদলে যাবে। রাজ্য সরকারের কাছে আমাদের দাবি, শ্রমিকদের ৬০বছর বয়স পর্যন্ত এই ভাতা দেওয়া হোক।
মুর্শিদাবাদ জেলায় সরকারিভাবে নথিভুক্ত চার লক্ষের বেশি পরিযায়ী শ্রমিক দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ও বিদেশে কাজ করছেন। জেলা শ্রমদপ্তরের দাবি, শ্রমশ্রী প্রকল্প চালুর বিজ্ঞপ্তি জারির পর হুহু করে পরিযায়ী শ্রমিকরা জেলায় ফিরছেন। ইতিমধ্যে ২০হাজারের বেশি আবেদনপত্র জমা পড়েছে।
ভগবানগোলা ব্লকের মানোয়ার হোসেন মহারাষ্ট্রে কাজ করতেন। তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে ওখানে নিরাপত্তার অভাব বোধ করছিলাম। মুখ্যমন্ত্রী শ্রমশ্রী প্রকল্প চালু করায় ফিরে এসে আবেদনপত্র জমা দিয়েছি। জলঙ্গির লালন শেখ থাকতেন ওড়িশায়। তিনি বলেন, ওড়িশায় বাঙালিদের উপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। তাই ভয়ে পালিয়ে এসেছি। শ্রমশ্রী প্রকল্পে নাম লিখিয়ে আশার আলো দেখছি।