


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দলীয় পতাকা, ফ্লেক্স-ব্যানার, নেতা-নেত্রীদের বড়ো বড়ো কাটআউট, ফুল-বেলুন-নির্বাচনে প্রচারের আয়োজন থাকে রাজকীয়। বর্ণাঢ্য মিছিল কিংবা রোড শো, মেগা র্যালি ঘিরে জমকালো চমক রাখেন প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাই। কিন্তু নির্বাচন মিটলে এই পতাকা, ব্যানার ফেস্টুন সরানোর দায়িত্ব আর কেউ নেয় না। আর এই নির্বাচনি বর্জ্য হয়ে ওঠে অঞ্চলের দৃশ্যদূষণের উপাদান। এক সমীক্ষক সংস্থার সার্ভে বলছে, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের সময় উৎপন্ন হবে অতিরিক্ত ১৫,৩৬২ টন বর্জ্য। কীভাবে অপসারণ হবে, সেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কে নেবে, তা নিয়ে চিন্তিত পরিবেশকর্মীরা নির্বাচন কমিশনকে ইতিমধ্যেই চিঠি লিখে তাঁদের দাবি-দাওয়া জানিয়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে রাজ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলই তাদের প্রচারপত্রে কোনো বাস্তবসম্মত ও সুনির্দিষ্ট সমাধানের কথা উল্লেখ করেনি বলেই দাবি ওই সংগঠনের। কলকাতা, হাওড়া এবং শিলিগুড়িতে বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদনকারী প্লান্ট স্থাপনের কোনো প্রস্তাব নেই। বর্জ্য সংগ্রহ, পরিশোধন এবং পুনর্ব্যবহৃত পণ্য বিক্রির এমআরএফ স্থাপনেরও কোনো প্রস্তাব নেই।
তাই এই পরিবেশপ্রেমী সংস্থা প্রস্তাব দিয়েছে, নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন উৎপন্ন এই বিপুল পরিমাণ বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য নির্বাচন কমিশন একটি কর্মসূচি করতে পারে এবং একটি এসওপি নির্ধারণ করা জরুরি। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে গাড়ির টায়ার কিংবা কুশপুতুল দাহ করতে দেখা যায়। তা পরিবেশ দূষণ ছড়ায়। সেক্ষেত্রে টায়ার পোড়ানোয় জড়িত রাজনৈতিক দল বা সংগঠনগুলির উপর নির্বাচন কমিশন ভারী জরিমানা আরোপ করতে পারে। সংগঠনের তরফে অধ্যাপক সাধনকুমার ঘোষ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলি এই নির্বাচনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম করতে পারে। তাছাড়া সামগ্রিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে তাদের অবস্থান জানানো উচিত। বিশেষ করে হাওড়া, কলকাতা ও প্রধান শহরগুলিতে বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র, ছোটো শহরে বায়ো মিথেনেশন প্লান্ট এবং কম্পোস্ট প্লান্ট স্থাপন, পুনর্ব্যবহারের জন্য পৃথকীকৃত বর্জ্য সংগ্রহ সুনিশ্চিত করাসহ নানাধরনের ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একটি বর্জ্যমুক্ত শহর গড়ে তোলা। আমরা এই সবকিছু অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছি।
নির্বাচনি বর্জ্যের প্রসঙ্গে কাশীপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অতীন ঘোষ বলেন, গতবছর নির্বাচনের পর আমি নিজেই অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গা থেকে পতাকা, ব্যানার সরাতে নিজের ওয়ার্ড এবং সংলগ্ন অঞ্চলে অভিযান চালিয়েছিলাম। অন্যদিকে, বিজেপি জোড়াসাঁকো কেন্দ্রের প্রার্থী বিজয় ওঝা বলেন, নির্বাচনের পর এই পতাকা, ব্যানার সরানো আমাদের নিজেদের কর্তব্য। যাতে সেগুলি ঝড়বৃষ্টিতে রাস্তায় পড়ে নোংরা না করে।