


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। রাজ্যজুড়ে উন্নয়নমূলক কাজ চলছে পুরোদমে। তার মধ্যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হল রাস্তা। রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় শুরু হয়ে গিয়েছে রাস্তাশ্রী, পথশ্রী (চতুর্থ দফা) প্রকল্পের কাজ। কিন্তু পুর এলাকায় সেটা শুরু হতে আরও দিনকয়েক লাগবে। পুর এলাকায় পথশ্রী প্রকল্পে ১১,৩৬৫টি রাস্তায় কাজ করার তালিকা তৈরি হয়েছে। তার মধ্যে আপাতত কাজ হবে ১০,০৬০টিতে, সেগুলির সর্বমোট দৈর্ঘ্য ২,৮৪৭ কিমি। ওয়ার্ক অর্ডার ইস্যু শুরু হবে ১০ জানুয়ারি থেকে। কাজগুলি করবে কেএমডিএ, পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। এই খাতে রাজ্যের খরচ হবে দেড় হাজার কোটি টাকা। রাস্তাগুলির একাংশ হবে বিটুমিনাস দিয়ে অথবা কংক্রিট। বাকি ক্ষেত্রে বসবে পেভার ব্লক।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, কলকাতা পুর এলাকায় রাস্তার কাজ হবে ১১২টিতে। যেমন স্লটার হাউস রোড, কানখুলি রোড, কারবালা রোড প্রভৃতি। পুর এলাকায় সর্বাধিক দায়িত্ব পেয়েছে কেএমডিএ। রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার কাজও তাড়াতাড়ি শুরু হওয়ার কথা। যেমন ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের এম এম বসু রোড, ২০ নম্বর ওয়ার্ডের রামচাঁদ রোড থেকে জে এন বসু রোড প্রভৃতি এলাকায় কাজ হবে। অন্যদিকে, কাজ হবে মধ্যমগ্রাম পুরসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশতলা রোড, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কবিগুরু সরণি, ডবসন গলি প্রভৃতি এলাকায়। কংক্রিটের কাজ হবে নৈহাটি পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কিরণ দাসের বাড়ি থেকে শিবুর চায়ের দোকান পর্যন্ত রাস্তায়। খড়দহ পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের পি সি সি রোডের একাংশও নির্মিত হবে এই দফায়। এগুলি মূলত কেএমডিএ করবে। এরকম বিভিন্ন জেলায় সমস্ত পুরসভায় রাস্তার তালিকা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, গ্রামগুলিতে যতটা সম্ভব রাস্তার কাজ শেষ করতে মরিয়া পঞ্চায়েত দপ্তর। তার জন্য জেলাগুলিকে ক্রমাগত চাপ দেওয়া হচ্ছে। গতমাসে রাস্তাশ্রী, পথশ্রীর নতুন কাজের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। কাজগুলি তারপর থেকে জোরকদমে শুরু হয়ে গিয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় ৮,৭৫৭টি রাস্তার মধ্যে এখনও পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার রাস্তা নির্মাণ শুরু হয়ে গিয়েছে। ইস্যু হয়েছে সাড়ে পাঁচ হাজার রাস্তার ওয়ার্ক অর্ডার। তবে বুধবার পর্যন্ত প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, ছয় হাজারের বেশি রাস্তার ওয়ার্ক অর্ডার ইস্যু এখনও বাকি।