নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ৭৩৮টি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র হয়েছে। এই সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে উপকৃত হবেন প্রত্যন্ত এলাকার মানুষজন। এর ফলে একদিকে মানুষ বাড়ির কাছেই উন্নত মানের চিকিৎসা পাবেন পাশাপাশি রোগীর পরিজনদের সমস্যায় পড়তে হবে না। অপরদিকে, জেলার বড় হাসপাতালগুলির উপরও কমবে চাপ। স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, এসব সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রে থাকবেন কমিউনিটি হেল্থ অফিসার। এছাড়াও টেলি মেডিসিনের সুবিধা পাবেন সাধারণ মানুষ। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী বলেন, ৭৩৮টি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র জেলায় হয়েছে। ভবিষ্যতে চিকিৎসা পরিষেবার উন্নতিতে আরও কতগুলি এমন কেন্দ্র তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। জেলার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ঢেলে সাজানোই মূল লক্ষ্য।
প্রসঙ্গত, একসময় জেলায় মাওবাদী আন্দোলনের প্রভাবে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো একেবারে ভেঙে পড়েছিল। এছাড়া বাম জমানায় হাসপাতালগুলিতে সঠিক পরিষেবা মিলত না। স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে নানা অভিযোগ ছিল মানুষের। ২০১২ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। ফলে আগের চেয়ে পরিষেবাও উন্নত হয়েছে হাসপাতালগুলিতে।
জানা গিয়েছে, আগে জেলার ব্লক হাসপাতালগুলির পরিকাঠামো ছিল খুব নিম্নমানের। এর ফলে জটিল রোগ বা কোনও বড় দুর্ঘটনা ঘটলে আক্রান্তকে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ছুটতে হত। এরপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে জেলায় একাধিক সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরি হয়। ঢেলে সাজানো হয় হাসপাতালগুলির পরিকাঠামো। এমনকি, হাসপাতালেই আইসিইউ ইউনিট চালু হওয়ায় উপকৃত হচ্ছেন গরিব মানুষ। জানা গিয়েছে, শুধু শালবনী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল থেকে গত বছর ১১ হাজারেরও বেশি মানুষ এক্সরে পরিষেবা পেয়েছেন। স্বাস্থ্য দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, জেলায় সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সংখ্যা আরও বাড়বে। কমিউনিটি হেল্থ অফিসারদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি টেলি মেডিসিনের মাধ্যমে স্বনামধন্য চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের পরামর্শ নিতে পারছেন রোগীরা।
কেশপুরের বাসিন্দা সমীর দাস বলেন, জেলার স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর প্রচুর বদল ঘটেছে। তবে হাসপাতালগুলিতে আরও নজরদারি বাড়াতে হবে।