


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুক্রবার দুপুরে শক্তিশালী বজ্রমেঘ থেকে প্রবল বৃষ্টি হল। ভেসে গিয়েছে কলকাতা ও শহরতলির বিস্তীর্ণ এলাকা। তবে এদিনই রাজ্য থেকে বর্ষা বিদায়ের পূর্বাভাস ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর। আগামী তিন-চারদিনের মধ্যে দেশের আরও কয়েকটি রাজ্যের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের কিছু অংশ থেকে বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হবে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর প্রান্ত থেকে প্রথম বর্ষা বিদায় শুরু হয়। ইতিমধ্যেই দেশের একটা বড় অংশ থেকে মৌসুমি বায়ু বিদায় নিয়েছে। শুক্রবার উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশের বেশিরভাগ অংশ ও বিহারের কিছু অংশ থেকে বর্ষা বিদায়ের কথা ঘোষণা করেছে আবহাওয়া দপ্তর। আগামী তিন-চারদিনের মধ্যে পশিচমবঙ্গের কিছুটা অংশ ছাড়াও মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের বাকি অংশ, গোটা ছত্তিশগড় এবং ঝাড়খণ্ডের সঙ্গে সিকিম, ওড়িশা ও তেলেঙ্গানার কিছু এলাকা থেকে বর্ষা বিদায় নেবে।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার স্বাভাবিক দিন হল ১০ অক্টোবর। স্বাভাবিক নিয়মে এই প্রক্রিয়া ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলার কথা। এবার রাজ্যে স্বাভাবিক সময়ের কয়েকদিন পর বর্ষা বিদায় শুরু হচ্ছে। দক্ষিণ বাংলাদেশ ও লাগোয়া উত্তর বঙ্গোপসাগরের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত থাকার জন্য মূলত বর্ষার বিদায়ে কিছুটা দেরি হল। ঘূর্ণাবর্তটি এবার সরে যাবে। তবে আজ শনিবার দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। জানানো হয়েছে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে।
আবহাওয়া অধিকর্তা জানিয়েছেন, আগামীকাল রবিবার উপকূলবর্তী পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কোনও কোনও এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। শুক্রবারের বৃষ্টির অন্যতম কারণ ছিল ঘূর্ণাবর্ত। তাছাড়া বর্ষা বিদায়ের সময় বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির প্রবণতা বেড়ে যায়। এদিন দুপুরে বজ্রগর্ভ মেঘ মূলত জমা হয়েছিল কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হুগলি, হাওড়া ও নদীয়া জেলার কিছু অংশে। যেখানে জোরালো মেঘ ছিল সেখানে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। কলকাতা (আলিপুরে) দুপুরে ৬৯.৫ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। দমদমে বৃষ্টি হয়েছে ৩২ মিমি, সল্টলেকে ৩২ মিমি এবং বারাকপুরে ৩৫ মিমি। ডায়মন্ডহারাবারে ৪৮ মিমি, হলদিয়া ৬০ মিমি ও কৃষ্ণনগরে ১৬ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের অন্য জেলায় এই সময়ে বিশেষ বৃষ্টি হয়নি। -নিজস্ব চিত্র