নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে বড়সড় বদল আনল রাজ্য সরকার। বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য বরাদ্দ মানবিক ভাতা এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে দেড় হাজার টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি, এতদিন ধরে যাঁরা কারচুপি করে সরকারি ভাতার টাকা বেআইনিভাবে আত্মসাৎ করছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের নির্দেশে সমস্ত উপভোক্তার নাম ধরে বিস্তারিত যাচাইপর্ব শুরু হয়েছে। সেই শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়ায় রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ‘অযোগ্য’ উপভোক্তার হদিশ মিলেছে সিউড়ি পুরসভায়।
সিউড়ি পুরসভায় একাধিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে যে লাগামছাড়া দুর্নীতি হয়েছে তা নিয়ে বিগত দিনে একাধিকবার সরব হয়েছেন বিরোধীরা। গত ১৫আগস্টের আগে তিরঙ্গা যাত্রার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে জেলার মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেছিলেন, ‘সিউড়িতে জেন-জি’রাও বার্ধক্য ভাতা পায়।’ মন্ত্রীর সেই দাবিতেই এবার সরকারিভাবে সিলমোহর দিল প্রশাসন।
এদিন নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভাতা বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে ভাতা প্রদান নিয়ে দুর্নীতির পরিসংখ্যান তুলে ধরেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল। তিনি জানান, সিউড়ি পুরসভায় মোট ১৫হাজার ৭০জন উপভোক্তা ভাতা পেতেন। যাচাইয়ের পর দেখা গিয়েছে, এরমধ্যে প্রায় ৬৯০০ জন অর্থাৎ ৪৬ শতাংশই অযোগ্য। তাঁরা হয় মৃত, অন্যত্র স্থানান্তরিত অথবা সম্পূর্ণ ভুয়ো উপভোক্তা। এই তালিকায় রাজ্যের মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ধুলিয়ান পুরসভা (প্রায় ৩৫ শতাংশ) এবং মিরিক পুরসভা(প্রায় ২৬ শতাংশ)।
প্রশাসনের যুক্তি, তালিকা থেকে অযোগ্য নামগুলি বাদ পড়লে সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধ হবে। সেই অর্থে আরও অনেক বেশি প্রকৃত ও যোগ্য মানুষকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হবে। অর্থাৎ উপভোক্তা তালিকা শুদ্ধিকরণকে শুধুমাত্র নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে না দেখে, নতুন যোগ্য উপভোক্তাদের অন্তর্ভুক্তির পথ হিসেবে দেখছে প্রশাসন। এদিন মুখ্যসচিব স্পষ্ট করে দেন, যাচাই প্রক্রিয়ায় মৃত ব্যক্তি, অন্যত্র চলে যাওয়া উপভোক্তা বা ভুয়ো পরিচয়ে সুবিধা নেওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। তবে প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে কোনও নাম বাদ দেওয়া যাবে না। উপভোক্তা প্রকৃতপক্ষে অযোগ্য, মৃত বা অস্তিত্বহীন সেব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পরই নাম বাদ দেওয়া যাবে।
এই বিপুল দুর্নীতির পরিসংখ্যান সামনে আসতেই সরব হয়েছে গেরুয়া শিবির। জেলা বিজেপির সহ সভাপতি দীপক দাস বলেন, সিউড়ি পুরসভা দুর্নীতির আঁতুড়ঘর। আবাসের বাড়ি কিংবা সামাজিক প্রকল্পের ভাতা, সবই নেতারা কেবল নিজেদের লোকেদের পাইয়ে দিয়েছেন, প্রকৃত উপভোক্তারা বঞ্চিত হয়েছেন। সবকিছুর তদন্ত হবে। তবে, সিউড়ি পুরসভার বোর্ড বর্তমানে ভেঙে যাওয়ায় এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।