শুভ্র চট্টোপাধ্যায়. কলকাতা: সাইবার জালিয়াতির শিকার হওয়ার পর খোয়া যাওয়া টাকা কীভাবে ফেরত পাওয়া যাবে, তা বুঝে উঠতে পারেন না প্রতারিতরা। ভরসা করতে হয় পুলিশকে। অনেকক্ষেত্রে ‘ফ্রোজেন ফান্ড’ ফেরানোর ক্ষেত্রে গড়িমসির অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। এই সমস্যার সমাধান এখন থেকে প্রতারিতরা নিজেই করতে পারবেন। ‘মানি রেস্টোরেশন পোর্টাল’এ গিয়ে অভিযোগের নম্বরসহ তথ্য দিলেই ‘ফ্রিজ’ হওয়া টাকা ফেরতের দাবি জানাতে পারবেন যে কোনো আম নাগরিক।
সাইবার জালিয়াতির শিকার হওয়া অনেকেই এনসিআরপি পোর্টালে অভিযোগ করেন। এই পোর্টালে দ্রুত অভিযোগ করলে, সাইবার প্রতারকরা এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে বা ওয়ালেটে টাকা ট্রান্সফার করার আগেই লেনদেন ব্লক করে দেওয়া হয়। ওই টাকা ফ্রিজ হয়ে থাকে প্রতারকদের অ্যাকাউন্টে। আবার মিউল অ্যাকাউন্ট বিশ্লেষণ করতে গিয়েও বিপুল পরিমাণ টাকার হদিশ মেলে। ব্যাংকে চিঠি দিয়ে এই টাকা ফ্রিজ করে রাখেন তদন্তকারীরা। বহু ক্ষেত্রেই অভিযোগ ওঠে, পুলিশ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট সময়ে চিঠি দিচ্ছেন না। যে কারণে প্রতারিতদের অ্যাকাউন্টে খোয়া যাওয়া টাকা ফেরত আসছে না। অনেক ক্ষেত্রে লাল ফিতের ফাঁসে দীর্ঘ সময় গোটা বিষয়টি এগয় না। বিয়য়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক পর্যন্ত পৌঁছয়। এরপরই কেন্দ্রের তরফে চালু করা হয় ‘মানি রেস্টোরেশন পোর্টাল’। এই পোর্টালে রাজ্যও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
রাজ্য পুলিশ সূত্রে খবর, প্রতারিত ব্যক্তি টাকা খোয়ানোর পর এনসিআরপি পোর্টালে অভিযোগ জানাবেন। সেখান থেকে ১৪ সংখ্যার একটি আইডি বের হয়। মানি রেস্টরেশন পোর্টালে প্রবেশ করার পর ওই আইডি দিতে হবে। সেখানে গিয়ে প্রতারিতরা ক্লিক করবেন রিফান্ড রিকোয়েস্ট। সেই সঙ্গে আবেদনকারীকে দিতে হবে প্যান কার্ড ও ব্যাংকের নথি। টাকা ফেরানোর ক্ষেত্রে যদি আদালতের কোনও অর্ডার থাকে, তাহলে সেটিও আপলোড করবেন প্রতারিত ব্যক্তি। পোর্টালে দেওয়া অ্যাকাউন্টে ফ্রিজ হওয়া টাকা জমা পড়বে। এরজন্য একটি পয়সা খরচ করতে হবে না আবেদনকারীকে। এই পোর্টাল নিয়ে মানুষকে সচেতন করার জন্য বিভিন্ন জেলায় ইতিমধ্যেই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই পোর্টালকে আরও জনপ্রিয় করে তোলা যায়। পাশাপাশি টাকা ফেরত পেতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার দরজায় দরজায় তাঁদের যেন ঘুরতে না হয়।