নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: বাবা দিনমজুর। দরিদ্র পরিবার। মা পরিচারিকার কাজ করেন। অভাবের সংসারে বিয়ের খরচের জন্য রূপশ্রী প্রকল্পে আবেদন করেছিলেন নারায়ণপুরের এক তরুণী। কিন্তু বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরও তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা আসেনি। কেন এমন ঘটনা ঘটল তা দেখতে গিয়ে জানা গিয়েছে, আবেদনপত্রে ভুল করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বরের বদলে ভুল করে কাস্টমার আইডি লিখে দিয়েছিলেন তরুণী। এরপর তিনি সমস্যা সমাধানে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে আবেদন করেন। সমস্যার সমাধানও হয়। দেরি হলেও রূপশ্রী প্রকল্পের এককালীন ২৫ হাজার টাকা অনুদান পেয়ে যান মহিলা। টাকা পেয়ে খুশি পরিবারটি। দেরি হওয়ায় তাঁরা ভেবেছিলেন হয়ত অনুদানের টাকা পাবেন না। এখন আশ্বস্ত হয়েছেন।
প্রশাসন ও পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই তরুণীর বাড়ি নারায়ণপুরের পশ্চিম বেড়াবেড়িতে। এলাকাটি বিধাননগর পুরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত। ২১ জানুয়ারি তরুণীর বিয়ের দিন ছিল। তিনি বিধাননগর পুরসভায় গিয়ে ১৮ ডিসেম্বর রূপশ্রী প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছিলেন। আবেদনপত্র নেওয়ার পর তদন্তেও গিয়েছিলেন দপ্তরের কর্মীরা। তাঁরা ফিরে এসে তা মঞ্জুর করেন। কিন্তু বিয়ের দিন এগিয়ে এলেও আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে টাকা আসেনি। নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনপত্রে পাত্রীর যে অ্যাকাউন্ট নম্বর দেওয়া হয় তাতে দপ্তর থেকে সরাসরি টাকা ক্রেডিট হয়।
অনুদান না আসায় তরুণী পুরসভার দপ্তরে যান। কারণ, তিনি আবেদনের কাগজপত্র খতিয়ে দেখেছিলেন। কোনও ত্রুটি পাননি। পরে দপ্তরের কর্মীরা দেখতে পান, ওই তরুণী
নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বদলে ব্যাঙ্কের কাস্টমার আইডি লিখে ফেলেছেন। কিন্তু সেটি সংশোধন হবে কীভাবে? কারণ, পুরসভার রূপশ্রীর দপ্তরে সরকারি পোর্টাল থেকে কারও অ্যাকাউন্ট নম্বর এডিট বা সংশোধন করা যায় না। নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণেই এই বিধি চালু আছে।
যেহেতু রূপশ্রী প্রকল্পটি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চালু করেছেন, তাই
টাকা পাওয়ার জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরেই আবেদন করেন। যাতে অ্যাকাউন্ট সংশোধন করা হয়। ততদিনে তাঁর বিয়ে হয়ে যায়। বিধাননগর পুরসভার রূপশ্রী প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা অংশুমান ধর বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে আবেদন করার পর তরুণী নিজে একটি স্বঘোষণাপত্র দিয়েছিলেন। যাতে অ্যাকাউন্ট নম্বর ভুল লেখার কথা জানান। এরপর মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়। আমরাও উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসকের দপ্তর এবং নারী ও শিশুকল্যাণ দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করি। সরকারি নির্দেশে কাস্টমার আইডির বদলে তরুণীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর বসানো হয়। তারপর তাঁর অ্যাকাউন্টে এককালীন অনুদান ২৫ হাজার টাকা ক্রেডিট হয়।