নাবালিকার শ্লীলতাহানি, অভিযুক্তকে ধরতে গিয়ে আক্রান্ত পুলিশ
  • ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট : নাবালিকার শ্লীলতাহানিতে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে আক্রান্ত পুলিশ! ওই যুবককে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি, পুলিশকর্মীদের মারধর, তাঁদের গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ।  শুক্রবার দুপুরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে রামপুরহাট পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সীতারাম রাইস মিল পাড়ায়। শেষ পর্যন্ত পুলিশ অবশ্য অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। 

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবকের নাম সন্দীপ কুমার। বিহার থেকে নির্যাতিতার এক প্রতিবেশীর বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল সে। নির্যাতিতা ১১ বছরের নাবালিকা প্রায়ই ওই প্রতিবেশী ওই বাড়িতে খেলতে যেত। এদিন দুপুরেও সে সেখানে গিয়েছিল। সেই সময় তার মা বাড়িতে রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। কিছুক্ষণ পরই শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে ফিরে মায়ের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপরই নাবালিকার মা স্থানীয় ক্লাব ও প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানান। বাসিন্দারা ওই প্রতিবেশীর বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে ঘিরে ফেলেন।  খবর পেয়ে রামপুরহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত সন্দীপকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। অভিযোগ, সেই সময়ই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ অভিযুক্তকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশের উপর চড়াও হয়ে মারধরের পাশাপাশি লাঠি কেড়ে নেওয়া হয়। পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট ছোড়া হয়। গাড়ির দরজা ভাঙার চেষ্টা চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। সেখানে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের কথা কাটাকাটি হয়। পরে পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মহিলা সহ একাধিক হামলাকারীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
জানা গিয়েছে, নির্যাতিতার বাবা চেন্নাইয়ে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। বাড়িতে তিন সন্তানকে নিয়ে থাকেন তাঁর স্ত্রী। বড় মেয়ের সঙ্গে এই জঘন্য ঘটনা ঘটার পর মা বিচার চেয়েছেন। তবে, নির্যাতিতার মায়ের দাবি, ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটলেও পুলিশের গায়ে কেউ হাত দেয়নি। তিনি এলাকার মানুষের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।
রামপুরহাট থানার এক আধিকারিক বলেন, নাবালিকাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে অভিযুক্তর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হবে। পাশাপাশি পুলিশের উপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এদিকে ঘটনার পর থেকেই কার্যত পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে ওই এলাকা।