মজিদ বাসকার: ফুরফুরে হাওয়ার সঙ্গী রোদ ঝলমলে আকাশ। সেপ্টেম্বরের ইরান সত্যিই সুন্দর। এমন আবহাওয়ায় মন তরতাজা হবেই। চেরি, আপেল, তরমুজে মজে আছি আমরা। কৃষকদের চোখও চকচকে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক শান্ত। সবমিলিয়ে ফিল গুড আমেজ। ইরান প্রো লিগও জমজমাট। গত শুক্রবার খেইবারকে হারাল সেপাহান এফসি। এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন লিগ টু’তে এই সেপাহানই ছিল মোহন বাগানের প্রতিপক্ষ। আপশোস, ম্যাচই যে হচ্ছে না! শুনলাম নিরাপত্তা নিয়ে অসন্তুষ্ট মোহন বাগান। অনিচ্ছুক ঘোড়া দিয়ে রেস জেতা যায় না। তবে এটুকু বলতে পারি, মোহন বাগানকে স্বাগত জানাতে আমার দেশ তৈরিই ছিল। আদর-আপ্যায়ণের ত্রুটি হতো না। ম্যাচ না হওয়ায় অন্য অনেকের মতো আমিও হতাশ। প্রাক্তন ফুটবলার হিসেবে না খেলার যন্ত্রণা সহজেই অনুমেয়। মোহন বাগান ফুটবলাররাও নিশ্চয়ই উপলব্ধি করবে। ওদের ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তে আমি বিস্মিত।
কলকাতা আমার সেকেন্ড হোম। ভালোবেসে ‘বাদশা’ বলেন সমর্থকরা। বড় ম্যাচের উত্তেজনা কোন পর্যায়ে পৌঁছতে পারে তা দেখেছি ফুটবলের মক্কায়। সে কী উন্মাদনা! ইস্ট বেঙ্গল-মোহন বাগান ম্যাচ মানেই যুদ্ধ যুদ্ধ আমেজ। এত বছর পরেও মনোরঞ্জন, ভাস্কর, মিহিরদের কথা মনে পড়ছে। অসাধারণ সব ফুটবলার। অন্যদিকে, মোহন বাগানের স্তম্ভ ছিল সুব্রত। দারুণ লড়াকু। হার মানতে চাইত না সহজে। যাই হোক, ঘরের মাঠে আমার পুরনো প্রতিপক্ষকে দেখতে মুখিয়ে ছিলাম। ইরানের সেপাহান কিন্তু দারুণ শক্তিশালী। দ্রুত পাসিং খেলতে অভ্যস্ত। দলে ৫ বিদেশি রয়েছে। এক ফরাসি স্ট্রাইকার খুবই সুযোগসন্ধানী। যদিও গত ম্যাচে জর্ডনের ক্লাবের কাছে অপ্রত্যাশিতভাবে হেরেছে ওরা। চার দলের গ্রুপে পয়েন্ট খোয়ানো মানেই সমস্যা। তাই যে কোনও মূল্যে ঘুরে দাঁড়াতে বদ্ধপরিকর সেপাহান। ব্যক্তিগত ধারণা, এই ম্যাচে কয়েক কদম এগিয়ে ছিল তারা। কিন্তু শিকা ফুঁকে দামামা বাজানোই সার। উত্তেজনার আগুনে জল ঢালল মোহন বাগান।