নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজোর মুখে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নিম্নচাপ। মোহন বাগানের আকাশেও কালো মেঘের আনাগোনা। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর এসিএল টু’য়ে মোহন বাগানের প্রতিপক্ষ ইরানের সেপাহান। মহাষ্টমীর রাতে মোলিনা ব্রিগেডের অ্যাসিড টেস্ট। কিন্তু মোহন বাগান কী আদৌ ইরান যাচ্ছে? তা নিয়েই বিস্তর জল্পনা। টিম ম্যানেজমেন্টের মুখে কুলুপ। সূত্রের খবর, শনিবার প্রেস রিলিজ দিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করবে টিম ম্যানেজমেন্ট। সব মিলিয়ে মজিদের দেশে যাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমশ কমছে।
ইরানে যেতে আগ্রহী নন কোনও বিদেশি। শোনা যাচ্ছে, নিরাপত্তার কারণেই এই সিদ্ধান্ত। এমনকী, ব্রাজিলিয়ান রবসনও নাকি নিমরাজি। এদিকে, কাউকে জোর করে ইরানে যাওয়ার নির্দেশ দিতে নারাজ টিম ম্যানেজমেন্ট। এদিন রাত পর্যন্ত বল রয়েছে ফুটবলারদের কোর্টে। মনবীর, লিস্টন, শুভাশিসরা জল মাপছেন। আসলে থিঙ্কট্যাঙ্কের কাছ থেকে কোনও নির্দিষ্ট নির্দেশ না মেলায় তাঁরাও দোটানায়। সবমিলিয়ে বিভ্রান্তি চরমে। উল্লেখ্য, গত মরশুমেও ট্রাক্টর এফসি’র বিরুদ্ধে খেলতে ইরান যায়নি মোহন বাগান। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে অনেকেই সেই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন। কিন্তু এবার ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা। সোশ্যাল সাইটে সুর চড়ছে সমর্থকদের। তাঁরা দেখতে চান, ভিনদেশিদের বিরুদ্ধে দেশের জবাব হয়ে লড়ুক গোটা দল। ঠুনকো অজুহাতের জায়গা নেই। ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি গতবারের তুলনায় অনেক শান্ত। শুক্রবারও প্রো লিগে ম্যাচ খেলেছে সেপাহান। পূর্ণশক্তি নিয়ে নিজের ডেরায় মোহন বাগানকে স্বাগত জানাতে তৈরি তারা। ভিসা কোনও সমস্যাই নয়, তা জোর গলায় দাবি করেছে সেপাহান টিম ম্যানেজমেন্ট। পাশাপাশি অন্য আশঙ্কাও রয়েছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ধাক্কা খাবি ভাবমূর্তি। একইসঙ্গে ইরানে না গেলে বিশাল জরিমানার সঙ্গে হতে পারে নির্বাসন। সেক্ষেত্রে এএফসি’তে মোহন বাগানের ভাগ্য বিশ বাঁও জলে।
গত মরশুমে আইএসএলে লিগ শিল্ড জেতেন কামিংসরা। ঘরোয়া ফুটবলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মঞ্চেও সাফল্য চেয়েছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। শক্তিশালী দল গড়তে কোনও কার্পণ্য করা হয়নি। হোসে মোলিনার দল নিয়ে তীব্র হাইপ তৈরি হয়। কিন্তু এসিএল টু’য়ের শুরুতেই ছন্দপতন। ঘরের মাঠে আহাল এফকে’র বিরুদ্ধে মুখ থুবড়ে পড়েন দিমি, ম্যাকা, রবসনরা। কোটি টাকার তারকাদের শো-কেসে সাজিয়ে রাখলে মরচে পড়তে বাধ্য। দিনের পর দিন ম্যাচ না খেললে ফিট থাকা অসম্ভব। তলোয়ারে জং পড়লে যুদ্ধ জেতা যায় কি?