Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ভরা যুবভারতীতে লিগ-শিল্ড জয়ের সেলিব্রেশন মোহন বাগানের, গোয়াকে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ

ভরা যুবভারতীতে লিগ-শিল্ড জয়ের সেলিব্রেশন মোহন বাগানের,  গোয়াকে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ
  • ৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০১
Prefer us on Google

শিবাজী চক্রবর্তী  কলকাতা

Advertisement

মোহন বাগান- ২     :        গোয়া- ০
(বরিস-আত্মঘাতী, স্টুয়ার্ট)

ইএম বাইপাস জুড়ে সবুজ-মেরুন ঝড়। বিকেল থেকে সারি সারি বাইক, ম্যাটাডোর আর গাড়িতে সমর্থকদের ঢল আছড়ে পড়ল যুবভারতীতে। গ্যালারি জুড়ে জাতীয় পতাকার পাশাপাশি সদর্প উপস্থিতি পালতোলা নৌকার। ভিআইপি গেটের বাইরে কারা যেন উড়িয়ে দিলেন একমুঠো আবীর। ‘জয় মোহন বাগান’ স্লোগানে কানে তালা ধরার জোগাড়। আইএসএলের লিগ-শিল্ড জয়ের সেলিব্রেশনের সাজানো মঞ্চেই ফের বাজিমাত মোলিনা-ব্রিগেডের। এফসি গোয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ নিলেন লিস্টনরা। প্রথম লেগে জিতেছিল মানোলোর দল। শনিবার সন্ধ্যায় ঘরের মাঠে পাল্টা দিলেন হোসে মোলিনার ছেলেরা। একই সঙ্গে ২৪ ম্যাচে ৫৬ পয়েন্টে পৌঁছে গেল ভারত সেরা মোহন বাগান। আইএসএলের ইতিহাসে যা সর্বাধিক। যুবভারতীর দুর্গে এখনও অপরাজিত সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। অন্যদিকে, ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে লিগ শেষ করল গোয়া।
কার্ড সমস্যায় শুভাশিস ও দীপক টাংরি অনুপস্থিত ছিলেন। বিশ্রাম দেওয়া হয় জেমি ম্যাকলারেনকে। ম্যাচ টাইম দিতে বিশালের পরিবর্তে ধীরাজ সিংকে খেলান মোলিনা। প্রথম একাদশে আশিক কুরুনিয়ান ও অনিরুদ্ধ থাপার অন্তর্ভুক্তি প্রত্যাশিতই ছিল। প্রথমার্ধে মোহন বাগানের আক্রমণ তেমন দানা বাঁধেনি। লিস্টন আর মনবীরের প্রান্তিক দৌড় বুদ্ধি করে বন্ধ করেন মানোলো মার্কুয়েজ। দুই উইং হাফকে কাট করতে দেননি গোয়ার ডিফেন্ডাররা। ক্লোজ মার্কিংয়ের জাঁতাকলে পেত্রাতোসও হাঁসফাঁস করলেন। উল্টে গোল করার সুযোগ এসেছিল গোয়ার সামনে। ১৭ মিনিটে বোরহার পাস থেকে সুবিধাজনক পরিস্থিতিতে বল পেয়েও বাইরে মারেন ইকের। দ্বিতীয়বার আশিস রাইকে টলিয়ে বিপক্ষ বক্সে ঢুকে পড়েন উদান্তা সিং। এক্ষেত্রে তাঁর শট টম আলড্রেড বাঁচান। নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয় বিরতির আগে। ম্যাচের ৪৫ মিনিটে রিসিভ করতে গিয়ে পড়ে যান পেত্রাতোস। ছিটকে আসা বল জোরালো শটে জালে জড়ান মনবীর। কিন্তু পেত্রাতোসের হ্যান্ডবলের দাবিতে সরব হন গোয়ার ফুটবলাররা। সহকারী ও চতুর্থ রেফারির সঙ্গে পরামর্শ করে গোল বাতিল করেন রাহুল কুমার গুপ্তা। 
ফুটবলে গোলই সবকিছু। লক্ষ্যভেদ না হলে পুরোটাই নুন ছাড়া তরকারি। দিমিত্রিদের অবশ্য তেমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়নি। ৬২ মিনিটে বহুকাঙ্ক্ষিত লিড পায় মোহন বাগান। এক্ষেত্রে টম আলড্রেডের ভাসানো বল হেড করে ব্যাকপাস করতে গিয়েছিলেন বরিস সিং। গোলরক্ষক ঋত্বিক তিওয়ারি কল না করেই এগিয়ে আসেন। দু’জনের ভুল বোঝাবুঝিতে বল সোজা জালে জড়ায় (১-০)। নিঃসন্দেহে লাকি গোল। তবে ভাগ্য সাহসীদেরই সহায় হয়। এরপর ৭০ মিনিটে লিস্টন কোলাসোর দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য বাইরে যায়। জাল কাঁপাতে পারলে অন্যতম সেরা গোলের সাক্ষী থাকত ৬২ হাজারের গ্যালারি। সংযোজিত সময়ে দলের দ্বিতীয় গোল স্টুয়ার্টের (২-০)। ম্যাচের পর সুদৃশ্য লিগ-শিল্ড তুলে দেওয়া হয় শুভাশিসদের হাতে। টানা দ্বিতীয়বার খেতাব জয়ের রাত আরও রঙিন স্কটিশ ফুটবলারের লক্ষ্যভেদে। এদিকে, ম্যাচের পর মোহন বাগান সচিব দেবাশিস দত্ত বলেন, ‘সঞ্জীব গোয়েঙ্কার সঙ্গে কথা হয়েছে। শিল্ড নিয়ে শীঘ্রই ক্লাব তাঁবুতে আসবেন তিনি।’
মোহন বাগান: ধীরাজ, আশিস (দীপ্যেন্দু), আলড্রেড, আলবার্তো, আশিক, আপুইয়া, অনিরুদ্ধ, মনবীর, লিস্টন, স্টুয়ার্ট (সুহেল) ও পেত্রাতোস (কামিংস)।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ