অম্বরীশ চট্টোপাধ্যায়, নৈহাটি:
অম্বরীশ চট্টোপাধ্যায়, নৈহাটি:
মোহন বাগান-৪ : কালীঘাট এসএলএ-০
(সন্দীপ, ডঙ্গেল-আত্মঘাতী, পাসাং, আদিল)
লিগের প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেয়ে গ্যালারির তীব্র বিদ্রুপের মুখে পড়তে হয়েছিল সালাউদ্দিনদের। সেই ধাক্কা কাটিয়ে নৈহাটি স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার জয়ে ফিরেছে মোহন বাগান। তবে দুর্বল কালীঘাট স্পোর্টস লাভার্স অ্যাসোসিয়েশনকে ৪-০ গোলে হারালেও মন ভরাতে ব্যর্থ সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। জয়ী দলের হয়ে স্কোর শিটে নাম তোলেন অধিনায়ক সন্দীপ মালিক, পাসাং তামাং ও আদিল আব্দুলাহ। অপর গোলটি ডঙ্গেলের আত্মঘাতী। এই জয়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন কোচ গেডি কার্ডোজো। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘জয়টা খুবই দরকার ছিল। আশা করছি, এবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারব।’
এদিনও ৪-৪-২ ফর্মেই আস্থা রেখেছিলেন মোহন বাগান কোচ ডেগি কার্ডোজো। গোলের লকগেট খোলে ২১ মিনিটে। লক্ষ্যভেদে সফল সন্দীপ (১-০)। তবে গোলটির আসল কারিগর মিংমা শেরপা। বিপক্ষ অর্ধে বল নিয়ে বাগান অধিনায়কের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে বক্সে ফের সন্দীপকে বল বাড়ান তিনি। এক্ষেত্রে ঠান্ডা মাথায় জাল কাঁপাতে ভুল করেননি মোহন বাগান অধিনায়ক। আট মিনিট পরেই দ্বিতীয় গোলের দেখা মেলে কালীঘাট গোলক্ষকের ভুলে। লিওয়ানের জোরাল শট রুমিত যাদব ফিস্ট করলে ডঙ্গেলের মাথায় লেগে জালে জড়ায় (২-০)। এর পর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ হারান বিলাল ও সালাউদ্দিন।
বিরতির পর ৫১ মিনিটে লিড বাড়ায় মোহন বাগান। ডান প্রান্ত থেকে নেওয়া টংসিনের সেন্টারে শূন্যে শরীর ভাসিয়ে সিজার কিকে জাল কাঁপান পাসাং তামাং (৩-০)। চলতি লিগের অন্যতম সেরা গোল। এরপর সবুজ-মেরুন রক্ষণের বোঝাপড়ার অভাবে ব্যবধান কমানোর সুবর্ণ সুযোগ হারায় কালীঘাট। বক্সের মধ্যে ফাঁকায় বল পেয়েও সাইড-নেটে মারেন ডঙ্গেল। উল্টে কিছুক্ষণের মধ্যে তাদের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন অদিল (৪-০)। লং বল ধরে টংসিন বল বড়ান তাঁকে। আড়াআড়ি শটে লক্ষ্যভেদ আদিলের। দ্বিতীয়ার্ধে কালীঘাট স্পোর্টস লাভার্স মাঠে নামায় সুরজ মণ্ডলকে। হাঁটুর বয়সি পাসাং, আদিলরা বুঝিয়ে দিলেন খেলা ছেড়ে পাড়ায় কোচিং করানোর সময় এসেছে বৃদ্ধ সুরজের।
যাইহোক, ধাক্কা সামলে প্রথম জয়ের সুবাদে আত্মবিশ্বাস বাড়ল মোহন বাগানের। তবে দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিজেদের মাপতে যাওয়া উচিত নয়। কারণ, রক্ষণভাগের দুর্বলতা যে জলের মতো স্পষ্ট!
মোহন বাগান: দীপ্রভাত, সাহিল (আদিত্য), লিওয়ান (রোশন), মার্শাল, বিলাল, মিংমা, সন্দীপ, সালাউদ্দিন (পীযূষ), টংসিন (নিয়াজ),পাসাং, করণ (আদিল)।