সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: অনুশীলনের মাঠ না পার্ক! মঙ্গলবারের সল্টলেক স্টেডিয়ামের প্র্যাকটিস গ্রাউন্ড দেখে তা সত্যিই বোঝার উপায় নেই। ম্যানিকুইনস সাজানোর আগেই মাঠে নেমে পড়েছেন মোহন বাগানের ফুটবলাররা। ছড়িয়ে ছিটিয়ে কোথাও তিন-চার জনের গ্রুপ বা কোথাও দু’জনে আড্ডায় রীতিমতো মশগুল। প্রত্যেকে চনমনে। বৃহস্পতিবার টাটা জেআরডি স্টেডিয়ামে আইএসএলের সেমি-ফাইনালে পালতোলা নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী জামশেদপুর এফসি। এই ফিল গুড পরিবেশই মোহন বাগানের সাফল্যের রহস্য। দলে তারকার ছড়াছড়ি হলেও প্রত্যেকে একসুতোয় বাঁধা। টিম গেমকে অস্ত্র করে দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই লিগ-শিল্ড ঘরে তুলছে মোলিনা-ব্রিগেড। এবার পাখির চোখ আইএসএল খেতাব।
অবশ্য এই চনমনে পরিবেশেও কিছু ব্যতিক্রম ছিল। জাতীয় শিবিরে কোমরে চোট পাওয়া মনবীর সিং অনুশীলনেই নামলেন না। তাঁকে ছাড়াই মঙ্গলবার দুপুরে জামশেদপুর রওনা দেবে টিম। চোটের তালিকায় রয়েছেন আপুইয়াও। এদিন বল পায়ে টিমের সঙ্গে অনুশীলন শুরু করলেও তাঁর আড়ষ্টভাব কাটেনি। প্র্যাকটিস শেষেও ফিজিওকে সঙ্গে নিয়ে আপুইয়ার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করলেন হেডস্যার মোলিনা। বুধবার জামশেদপুরের বাস ধরার আগে সকালে চূড়ান্ত অনুশীলন সারবে মোহন বাগান। তখনই এই মিজো মিডিওকে আর একবার পরখ করে সিদ্ধান্ত নেবেন স্প্যানিশ কোচ। তবে তাঁকে টিমে রাখলেও প্রথম একাদশে খেলানোর ঝুঁকি নেবেন বলে মনে হয় না। জেমি ম্যাকলারেনেরও হাল্কা নিগল আছে। তবে অজি তারকা সেমি-ফাইনালে খেলতে মরিয়া। এদিন বল পায়ে অনুশীলনের পর ফিজিওর সঙ্গে আলাদা করে কসরত করলেন। তাই আক্রমণভাগে জেমিকে রেখেই ঘুঁটি সাজাবেন মোলিনা। তাঁর সঙ্গে ফিডার হিসেবে জুড়ে দিতে পারেন গ্রেগ স্টুয়ার্টকে। কারণ, প্রাক্তন টিম জামশেদপুরের বিরুদ্ধে তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাইবেন স্প্যানিশ কোচ। আর মাঝমাঠে আপুইয়ার পরিবর্তে শুরু করবেন দীপক টাংরি। রাইট উইংয়ে মনবীরের অনুপস্থিতিতে খেলবেন সম্ভবত সাহাল আব্দুল সামাদ।
এদিকে, ঘরের মাঠে লিগ পর্বের ম্যাচে মোহন বাগানকে রুখে দিয়েছিল জামশেদপুর। তাই এবার সেমি-ফাইনালে খালিদ জামিল-ব্রিগেডের বিরুদ্ধে নামার আগে বেশ সতর্ক কোচ মোলিনা। তাছাড়া দীর্ঘ ব্রেকে ছন্দ কাটার সংশয়ও রয়েছে। তাই এদিন জামশেদপুরের ৪-৪-১-১ ফর্মেশনে ম্যানিকুইনস সাজিয়ে ট্যাকটিকাল অনুশীলন করালেন মোলিনা। প্রতিপক্ষের লং বল স্ট্র্যাটেজিকে ভোঁতা করতে বিশেষ মহড়া সারলেন আলবার্তো-টম আলড্রেডরা। বাগান কোচ সাংবাদিক সম্মেলনে এসে বলে গেলেন, ‘জামশেদপুর অবশ্যই ভালো দল। তবে লিগ-শিল্ড জয়ী মোহন বাগানের বিরুদ্ধে ওরাই চাপে থাকবে।’