নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এমনিতে বেশ লাজুক প্রকৃতির। যুবভারতীর ভিড় আর ক্যামেরার ঝলকানিতে শনিবার আরও জড়সড় ছেলেটা। অবাক চোখে আইএসএলের লিগ-শিল্ডের দিকে তাকিয়ে ছিল রাজদীপ পাল। মোহন বাগান জুনিয়র ব্রিগেডের বিস্ময় বালক হালিশহরের এই স্ট্রাইকার। চলতি মরশুমে ইতিমধ্যেই ৫০টি গোল করে হইচই ফেলে দিয়েছে। যুবভারতীর সবুজ গালিচায় দাঁড়িয়ে রাজদীপ জানাল, ‘মোহন বাগান সিনিয়র দলে সুযোগ পাওয়াই লক্ষ্য। তাছাড়া স্বপ্ন দেখি জাতীয় দলে খেলারও।’ ভারতীয় ফুটবলে মোহন বাগানের স্বর্ণযুগ চলছে। যুব বাহিনীও পিছিয়ে নেই। বয়সভিত্তিক বিভিন্ন দলের ফুটবলারদের ঐতিহাসিক মঞ্চে হাজির করার সিদ্ধান্ত থিঙ্কট্যাঙ্কের ব্রেনচাইল্ড। দর্শকদের উন্মাদনা, প্রত্যাশার চাপ, মুঠো মুঠো আবেগের বিস্ফোরণ দেখে বিস্মিত রাজদীপ। প্রিয় ক্লাবের সবুজ-মেরুন জার্সিতে ভবিষ্যতে মাঠ কাঁপালে নিঃসন্দেহে একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ হবে।
রাজদীপদের উত্তরণ নিখুঁত পরিকল্পনার ফসল। সারা বছর চলে নিবিড় অনুশীলন। হালিশহরের স্থানীয় ক্লাব থেকে তাকে স্পট করেন প্রাক্তন ফুটবলার তনুময় বসু। দরিদ্র পরিবারে জন্ম। নুন আনতে পান্তা ফুরোয় দশা। রাজদীপের বাবা রং মিস্ত্রী। জীবন সংগ্রামে ফুটবলই তার অক্সিজেন। পরম যত্নে রাজদীপকে আগলে রেখেছেন তনুময়। প্রাক্তন গোলরক্ষক বলছিলেন, ‘ছেলেটার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। লম্বা রেসের ঘোড়া। টিম ম্যানেজমেন্টকে ধন্যবাদ জানাই।’ কয়েকদিন আগে সিনিয়র দলের সাংবাদিক সম্মেলনে রাজদীপ ও প্রেম হাঁসদাকে হাজির করিয়েছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। কোচ হোসে মোলিনা আর জেমি ম্যাকলারেনের হাত দিয়ে দামি বুট উপহার দেওয়া হয় তাদের। অজি বিশ্বকাপার পরামর্শ দেন-‘ফুটবলে পারফরম্যান্সই আসল। ভুলত্রুটি শুধরাতে বাড়তি অনুশীলন প্রয়োজন। মাথা ঘুরে গেলেই মুশকিল। এটা সবসময় মাথায় রাখতে হবে।’ জেমির মতো বক্স স্ট্রাইকারের সান্নিধ্য লাভ দুই জুনিয়রের কাছে পরম আশীর্বাদ। বিশ্বকাপারের টিপস মাথায় রাখলে লাভবান হবেন রাজদীপরা।