সঞ্জয় সরকার, কলকাতা: তখনও সন্ধ্যা নামেনি। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের চার নম্বর গেটের বাইরে টিকিটের লাইন। তারই মধ্যে এক মোহন বাগান সমর্থকের গলায় উদ্বেগের সুর, ‘এবার কিন্তু ইস্ট বেঙ্গল দল যথেষ্ট ব্যালান্সড। ওদের মিগুয়েলকে আটকাতে না পারলে বিপদ।’ বছর পঞ্চাশের অনিন্দ্যবাবু পালটা বলে উঠলেন, ‘আরে ছাড়ুন। অনেক দেখা আছে। আমরা শেষ দু’বারের চ্যাম্পিয়ন। আইএসএলে এখনও বড়ো ম্যাচ হারিনি। মিলিয়ে নেবেন রবিবারও ম্যাকলারেনের গোলে বাঙালদের আমরা হারাবই।’ মুহূর্তে বদলে গেল আবহ। সমর্থকরা চাঙ্গা। রবিবার মরশুমের শেষ ডার্বির আগে ফুটবলারদের মধ্যেও এই জোশটা দেখার আশায় বাগান অনুরাগীরা।
অনেকেই মনে করছেন, আইএসএলের ইতিহাসে প্রথমবারের জন্য কিছুটা হলেও পিছিয়ে মোহন বাগান। গত দু’টি ম্যাচে ড্রয়ের পর খেতাব জয়ের পথ কঠিন করে তুলেছেন লিস্টন-মনবীররা। তাতে রবিবার জয় ছাড়া কোনও বিকল্প নেই সের্গিও লোবেরার সামনে। পক্ষান্তরে, ড্র করলেই অ্যাডভান্টেজে থাকবে অস্কার ব্রুজোঁর ছেলেরা। তবে মর্যাদার মহারণে অভিষেকের আগে মাথা ঘামাতে চান না মোহন বাগানের স্প্যানিশ কোচ। বরং গত কয়েক ম্যাচের দুর্বল জায়গাগুলি মেরামত করে ফের যুবভারতীর রং সবুজ-মেরুনে রাঙাতে তৈরি লোবেরা।
গত কয়েক বছরে সেটপিস থেকে মিয়মিত গোল পেয়েছে মোহন বাগান। তবে চলতি টুর্নামেন্টে এটাই ডেড বল মুভমেন্টে গোল কোথায়? তাই ডার্বির শেষ মহড়ায় এই জায়গায় বাড়তি জোর দিলেন লোবেরা। এদিন অনুশীলনে দীর্ঘসময় দু’প্রান্ত থেকে ক্রস তুললেন মনবীর-লিস্টনরা। তা কখনও হেডে, আবার কখনও ভলিতে গোল করার মহড়া সারলেন দিমিত্রি-ম্যাকলারেনরা। এছাড়া পাসিং ফুটবলেও শান দিয়ে রাখলেন বাগান কোচ। উল্লেখ্য, রবিবারের ডার্বিতে সাউল ও শৌভিককে পাবে না ইস্ট বেঙ্গল। তবে চোট সারিয়ে আপুইয়া ফেরার মাঝমাঠে দখল নেওয়াই লক্ষ্য থাকবে বাগান কোচের। তবে দলে সৃজনশীল ফুটবলারের অভাব বারবার দেখা দিয়েছে। সাহাল আবদুল সামাদ কখনওই সেই পর্যায়ে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। পাশাপাশি রবসনকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে কখনও মনবীর, তো কখনও লিস্টনকে বেঞ্চে বসাতে হয়েছে বাগান কোচকে। ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারও নামের প্রতি সুবিচার করতে ব্যর্থ। তবে যাবতীয় সমালোচনার জবাব দিতে রবিবারের ম্যাচকে পাখির চোখ করছেন রবসন। মাঠ ছাড়ার মূহূর্তে বললেন, ‘লিগের সবচেয়ে গুরুত্বর্পূণ ম্যাচে খেলতে নামছি। আমার কেরিয়ারেরও। তাই জিতে মাঠ ছাড়তে চাই।’
সম্ভাব্য একাদশ: বিশাল, অভিষেক, আলড্রেড, আলবার্তো, শুভাশিস, আপুইয়া, থাপা, লিস্টন, সাহাল, রবসন ও ম্যাকলারেন।