এফসি গোয়া-৩ : মোহন বাগান-১
(ব্রেসন, জেনা, বোরহা) (সুহেল)
এফসি গোয়া-৩ : মোহন বাগান-১
(ব্রেসন, জেনা, বোরহা) (সুহেল)
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বুধবারের সন্ধ্যা দ্রুত ভুলে যেতে চাইবেন ধীরাজ সিং। তাঁর ভুলেরই মাশুল গুনল মোহন বাগান। দুরন্ত লড়াই করেও শেষরক্ষা হল না। সুপার কাপের সেমি-ফাইনালে এফসি গোয়ার কাছে ১-৩ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। মানোলো মার্কুয়েজ বাহিনীর হয়ে স্কোরশিটে নাম তোলেন যথাক্রমে ব্রেসন, জেনা ও বোরহা হেরেরা। মোহন বাগানের একমাত্র গোলদাতা সুহেল। ম্যাচ হারলেও সালাউদ্দিনরা বোঝালেন, অনেক দূর যাওয়ার রসদ তাঁদের মধ্যে রয়েছে।
পূর্ণশক্তির দল নিয়ে মাঠে নামার সুবিধা শুরু থেকেই কাজে লাগায় গোয়া। তবে ৪-৫-১ ফর্মেশনে দল সাজিয়ে মাঝমাঠ জমাট রাখার চেষ্টায় সফল কোচ বাস্তব রায়। মানোলো মার্কুয়েজ-ব্রিগেডের প্রেসিং ফুটবল প্রথমার্ধে তাই সবুজ-মেরুনের ডিফেন্সিভ থার্ডের গণ্ডিতেই আটকে থাকল। এই পর্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিলেন দীপক টাংরি ও নুনো রেইজ। তবে ২০ মিনিটে অভিষেক সুযর্বংশীর ভুলে ডেডলক খোলে গোয়া। কর্নার থেকে মোহন বাগান বক্সে বল ভাসিয়ে ছিলেন বোরহা। ফিরতি বল পেয়ে তিনি ফের বাঁ পা পায়ের ইনস্যুইং রাখেন ব্রেসন ফার্নান্ডেজকে লক্ষ্য করে। তখন তাঁর মার্কার অভিষেক। বল মোহন বাগানের মিডিওর গায়ে লেগেই জালে জড়ায়। কিন্তু স্কোরশিটে ওঠে ব্রেসনের নাম (১-০)। পিছিয়ে পড়লেও সমতায় ফিরতে দেরি করেনি সবুজ-মেরুন। ২২ মিনিটে দুরন্ত আক্রমণ থেকে লক্ষ্যভেদে সফল সুহেল ভট। তবে গোলের কারিগর আশিক কুরুনিয়ান। বাঁ প্রান্তে শরীরের ঝাঁকুনিতে বরিস সিংকে বোকা বানিয়ে গতিতে বক্সে ঢুকে দুরন্ত মাইনাস রাখেন কেরালাইট উইং-হাফ। সন্দেশ ও ওনাইনডিয়ার মাঝখান থেকে বল জালে জড়ান কাশ্মীরি স্ট্রাইকার (১-১)। তবে বিরতির আগে জেনার হেড পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। না হলে তখনই লিড পেত গোয়া।
বিরতির পর অবশ্য গোয়ার প্রাধান্য ছিল সংশয়াতীত। তবে মোহন বাগান দুর্গপ্রহরী ধীরাজ সিং এদিন দায়িত্ব নিয়ে দলকে ডোবালেন। ৫০ মিনিটে তাঁর ভুলের মাশুল গুনতে হল সবুজ-মেরুনকে। একের বিরুদ্ধে একের লড়াইয়ে বক্সের মধ্যে ড্রাজিচকে ফাউল করেন ধীরাজ। সঙ্গত কারণেই পেনাল্টি পায় গোয়া। স্পটকিক কাজে লাগিয়ে গোয়াকে লিড এনে দেন জেনা (২-০)। মিনিট ছয়েক পরে ফের ধীরাজের ভুলে গোল হজম করে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। এবার স্কোরশিটে নাম তোলেন বোরহা। কর্নার থেকে নেওয়া তাঁর বাঁ পায়ের বাঁক খাওয়ানো শট ধীরজের নাগাল এড়িয়ে সরাসরি জালে আছড়ে পড়ে (৩-১), যা ‘ওলিম্পিক গোল’ নামে পরিচিত। আর তাতেই তাল কাটে সুহেলদের। এরপর আর লড়াইয়ে ফিরতে পারেননি সাহাল আব্দুল সামাদরা।
মোহন বাগান: ধীরাজ, সৌরভ, দীপ্যেন্দু, নুনো, আমনদীপ (সেরতো), সালাউদ্দিন (টাইসন), সাহাল, দীপক, অভিষেক, আশিক এবং সুহেল।