শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: ১৯১১। ফুটবল মাঠে স্বাধীনতার স্বাদ আনলেন শিবদাস, বিজয়দাসরা। ব্রিটিশ ইস্ট-ইয়র্কশায়ারকে ২-১ গোলে হারিয়ে মোহন বাগানের ঐতিহাসিক শিল্ড জয় ঘিরে উদ্বেল গোটা দেশ। শোনা যায়, ম্যাচের ফলাফল লেখা ঘুড়িতে ঢাকা পড়েছিল কলকাতার আকাশ। শঙ্খধ্বনি, মিষ্টিমুখ আর আতশবাজির রোশনাইয়ে হাজার হ্যাজাকের আলোও ম্লান। শতাব্দীপ্রাচীন মোহন বাগান আজও স্বহিমায়। সবুজ-মেরুন পতাকা বাতাসে টানটান।
গঙ্গার ধারে শ্রীরামপুর ঐতিহাসিক শহর। প্রাচীনত্বের ছোঁয়া সর্বাঙ্গে। ফল্গুধারার মতো বইছে মোহন বাগান আবেগ। চাতরা ঘোষপাড়ায় অভিজিৎ ঘোষের জীবনের রংও সবুজ-মেরুন। মোহন বাগানের খেলা দেখতে গাড়ি নিয়ে পাড়ি জমান ভিনরাজ্যেও। চলতি আইএসএলে ধরাছোঁয়ার বাইরে তাঁর প্রিয় দল। আনন্দে ডগমগ হাজার হাজার অনুরাগী। খেতাব জয়ের পর এলাহি কাণ্ড ঘটিয়েছেন অভিজিৎবাবু। ক্যানিং স্ট্রিটের বেলুন গলির চেনা কারিগরের থেকে ৮০ হাজার টাকায় কিনে ফেলেছেন ঢাউস বেলুন। সবুজ-মেরুন পতাকা, পালতোলা নৌকো, ক্লাবের লোগোয় সাজানো সেই বেলুন শ্রীরামপুরের বিস্ময়। গ্যাস ভরতে ভাড়া করে আনা হয় ছ’টি সিলিন্ডার। বেলুন ওড়ানোর পর ক্ষীরের চিংড়ি আর সবুজ রসগোল্লায় ভুরিভোজ। পূর্ণিমার ফুটফুটে চাঁদের আলো চলকে ওঠে নৌকোর খোলে। মেঘের ভেলায় ভেসে বেড়ায় গর্ব। মুচকি হেসে অভিজিৎবাবুর মন্তব্য, ‘বুঝলেন দাদা, চিরকাল রেলায় আছে, থাকবে মোহন বাগান।’