নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘অবসর’ দূরঅস্ত! বরং আসছে জিএসটির দীপাবলি গিফট, সুদর্শন চক্র, অনুপ্রবেশ রোখার প্রকল্প সহ আরও অনেক কিছু। শুক্রবার স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) বন্দনা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন, দলের নিয়ম মেনে ৭৫ বছর বয়সে বিদায় নিচ্ছেন না। আরও দু’টো লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী ‘মুখ’ থাকবেন তিনিই। আর তাই পরবর্তী ১০ বছরে কী কী করবেন, কার্যত তার ফিরিস্তি দিয়ে রাখলেন। যদিও কর্মসংস্থান নিয়ে মোদির ‘নতুন’ ঘোষণায় তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।
৭৫ বছর বয়স হল দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার সঠিক সময়—সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত এই মন্তব্যে উস্কে দিয়েছিলেন মোদির অবসরের জল্পনা। প্রশ্ন ওঠে, তবে কি প্রধানমন্ত্রী পদে মোদিকে আর চাইছে না সঙ্ঘ? লালকেল্লার ভাষণে সেই আরএসএসের বন্দনা করেই সব প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন মোদি স্বয়ং। বলেছেন, ‘আজ আমি গর্বের সঙ্গে একটি বিষয় উল্লেখ করতে চাই। ১০০ বছর আগে জন্ম নিয়েছিল আরএসএস। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ এই ১০০ বছর ধরে দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হয়ে থেকেছে। তাদের ভূমিকা ইতিহাসে সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে। আরও বহু বছর এভাবেই সঙ্ঘ পরিবার আমাদের অনুপ্রাণিত করে যাবে।’ এমনকী একধাপ এগিয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্তুতি, বিশ্বের সবথেকে বড় এনজিও হল আরএসএস।
শুধু তাই নয়, একের পর এক ভবিষ্যৎ প্রকল্পের উল্লেখ করে নিজের লম্বা ইনিংসের ঘোষণা কার্যত করে দিয়েছেন মোদি। বলেছেন, ‘পরবর্তী ১০ বছরে, ২০৩৫ সালের মধ্যে আমি জাতীয় সুরক্ষা কবচকে আরও বিস্তৃত, শক্তিশালী এবং আধুনিক করার ব্রত নিচ্ছি। আর সেজন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শরণাপন্ন হয়ে সুদর্শন চক্রের পথই বেছে নিতে চলেছি আমরা। দেশ শীঘ্রই সুদর্শন চক্র মিশন প্রস্তুত করবে।’ একইসঙ্গে কর্মসংস্থানের নয়া দিশাও দিয়েছেন তিনি। ঘোষণা করেছেন ‘প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনা’র। মোদির কথায়, এই যোজনায় দু’বছরে সাড়ে তিন কোটি চাকরির সুযোগ তৈরি হবে। বেসরকারি সংস্থা-প্রতিষ্ঠানের প্রথমবারের কর্মীদের দুটো কিস্তিতে এক বছরের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকার উৎসাহ ভাতা মিলবে। প্রত্যেক নতুন কর্মীর নিয়োগ পিছু সংস্থা কর্তৃপক্ষও মাসে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা করে উৎসাহ ভাতা পাবে। আর এতেই তৈরি হয়েছে চরম বিভ্রান্তি। তথ্যাভিজ্ঞ মহলের প্রশ্ন, এটি আদৌ নতুন কোনও ঘোষণা? নাকি ইতিমধ্যেই ঘোষিত এমপ্লয়মেন্ট লিঙ্কড ইনসেনটিভ স্কিমের (ইএলআই) পরিবর্তিত নাম? শ্রমমন্ত্রক সূত্রের দাবি, এটি ইএলআই স্কিমেরই আওতাধীন। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের বাজেটে সেই ঘোষণা করেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। ১ জুলাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাও তাতে অনুমোদন দিয়েছে। লালকেল্লার ভাষণে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের নতুন নাম দিয়েছেন মাত্র। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রকে তুলোধোনা করেছে কংগ্রেস। সংসদে সরকারের লিখিত উত্তর টুইট করে রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, ‘ফের এক লক্ষ কোটির জুমলা! ১১ বছর পরেও মোদিজি সেই পুরনো জুমলা আঁকড়ে। পিএম ইন্টার্নশিপ স্কিমে সাড়া মেলেনি। মাত্র সাড়ে ৯ হাজার ইন্টার্ন যোগ দিয়েছেন। অথচ মোদি সরকার কর্মসংস্থানের ঘোষণা করেই চলেছেন।’