রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপুজো নিয়ে ১৮০ ডিগ্রি অবস্থান বদল করল বিজেপি। যে বিজেপি একটা সময় বলত, বাংলায় দুর্গাপুজো করতে দেওয়া হয় না। সেখানে সদ্য দমদম সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখে শোনা গেল, বাংলায় দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। এই বিষয়টিকে বাংলার জয় হিসেবেই দেখছেন বঙ্গের পুজো উদ্যোক্তারা।
এ বছর ২১ সেপ্টেম্বর মহালয়া। ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী। ফলে দুর্গাপুজোর প্রহর গোনা শুরু হয়ে গিয়েছে বাংলায়। কলকাতা, শহরতলি, জেলায় পুজোর প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। প্যান্ডেল তৈরি, মূর্তি গড়ার কাজ চলছে সমানতালে। ঠিক এই প্রেক্ষাপটে গত শুক্রবার দমদমের সভায় নরেন্দ্র মোদির মুখে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি সংক্রান্ত কথা শুনে কার্যত হতবাক হয়ে গিয়েছেন রাজনীতির কারবারি থেকে পুজো উদ্যোক্তারা। সকলেরই বক্তব্য, বিজেপির বিলম্বে বোধোদয় হল।
একসময় বিজেপির তাবড় নেতারা অভিযোগ করতেন, বাংলায় দুর্গাপুজো করতে দেওয়া হয় না। কিংবা দুর্গাপুজো করার জন্য অনুমতি আদায়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়। এই প্রেক্ষাপটেই শুক্রবার দমদমের সভা থেকে নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, আমি এমন সময় বাংলায় এসেছি যখন দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। কুমোরটুলিতে দুর্গাপ্রতিমা তৈরি হচ্ছে। বড়বাজার থেকে পার্ক স্ট্রিট নতুন রূপে সাজছে। মোদির এই বক্তব্য সামনে আসার পর বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হতে দেরি করেনি তৃণমূল। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার কটাক্ষ, যে বিজেপি নেতারা বাংলার দুর্গাপুজো নিয়ে আঙুল তুলতেন, তাঁদের সেই বক্তব্যকেই খারিজ করে দিলেন নরেন্দ্র
মোদি। উনি নিজের বক্তব্যেই প্রমাণ করে দিলেন বাংলার মানুষ দুর্গাপুজোর উৎসবে শামিল হতে তৈরি। বাংলার এই সুন্দর উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই।
পুজো উদ্যোক্তারা খোলাখুলি বলছেন, বর্তমান রাজ্য সরকারের জন্যই বাংলার দুর্গাপুজোর প্রসার ও ব্যাপ্তি ঘটেছে। ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের সহ সভাপতি শাশ্বত বসু বলেন, কলকাতা তথা বাংলার দুর্গাপুজো নিয়ে বিজেপি নেতাদের ধারণাই নেই। যে কারণে তাঁরা এক একসময় এক এক রকমের কথা বলেন। বাঙালির প্রাণের দুর্গোৎসব আজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পেয়েছে। এই উৎসবের সঙ্গে অর্থনৈতিক যোগ, কর্মসংস্থান, জীবন-জীবিকা জড়িয়ে আছে। আর একথা বলতে কোনও দ্বিধা নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনন্য উদ্যোগের মধ্য দিয়ে কলকাতার দুর্গাপুজো দেখতে প্রতিবছরই ভিড় বাড়ছে বিদেশি পর্যটকদের। ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন উকিল বলেন, পশ্চিমবঙ্গের পূর্বতন
রাজ্য সরকার দুর্গাপুজোকে তুলে ধরার বিষয়ে কোনও উদ্যোগ নেয়নি। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এই দুর্গোৎসবকে বৃহৎ আঙ্গিকে নিয়ে গিয়েছে। বাংলার দুর্গাপুজোর সঙ্গে ৮০ হাজার কোটি টাকার অর্থনীতি যুক্ত। আর সরকারি উদ্যোগে যে অনুদান দেওয়া হয়, সেটা পৌঁছয় প্রান্তিক মানুষের কাছেও। ফলে দলমত নির্বিশেষে সকলেই আজ স্বীকার করে নিয়েছেন বাংলার দুর্গাপুজো সেরার সেরা।