


শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: মতুয়া সম্প্রদায়ের বারুণি মহামেলার মুখে বনগাঁর ঠাকুরনগরে অস্বস্তির মেঘ। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় মতুয়া সম্প্রদায়ের বহু মানুষের নাম বাদ পড়েছে। অনেক নাম ‘বিচারাধীন’ অবস্থায় ঝুলে আছে। ফলে নাগরিক পরিচয় ও ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে মতুয়া সমাজের একাংশের মধ্যে। এই পরিস্থিতিতে সবার চোখ ছিল শনিবারের ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভার দিকে। কারণ অতীতে বাংলার একাধিক সভায় প্রধানমন্ত্রী মতুয়া সম্প্রদায়কে বারবার আশ্বাস দিয়ে বলে গিয়েছেন, নাগরিকত্বের প্রশ্নে তাঁদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। সেই কারণে এবারের ব্রিগেড সভা ঘিরে মতুয়া মহলের প্রত্যাশা ছিল বেশি। কিন্তু বাস্তবে প্রত্যাশা কিছুই পূরণ হল না। বাংলা নিয়ে গতানুগতিক ভঙ্গিতে একাধিক গ্যারান্টির কথা বললেও মতুয়াদের ‘নাগরিকত্বের গ্যারান্টি’ দিলেন না মোদি। তাই হতাশা আরও বেড়েছে মতুয়া সমাজের মধ্যে। তাঁদের বক্তব্য, যাঁর কথায় এতদিন ভরসা ছিল। তাঁর কাছ থেকেই যদি ভোট ঘোষণার আগে কোনো কথা না শোনা যায় তা হলে সংশয় কাটবে কী করে?
বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ সময়ের অপেক্ষা। এছাড়া ১৭ মার্চ শুরু হচ্ছে ঠাকুরবাড়িতে ঐতিহ্যবাহী বারুণি মেলা। মেলার প্রস্তুতি প্রায় শেষ। ঠাকুরবাড়ি চত্বরে দোকান বসছে। এসআইআর পর্বে বনগাঁর মতুয়া গড়ের চার বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নাম বাদ গিয়েছে ৩৬ হাজার ৯০১ জনের। আর বিচারাধীন আছেন আরও ৬১ হাজার ৪৮০ জন। যার সিংহভাগ মতুয়া সম্প্রদায়ের। তাই বিজেপি ও কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে মতুয়াদের। এই আবহে তাঁরা ভেবেছিলেন ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের আগে শেষবার কলকাতার ব্রিগেড সমাবেশ থেকে মতুয়াদের কিছু আশার কথা প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে শুনতে পাবেন। কিন্তু তাঁদের নিয়ে কোনও কথা এদিনও না বলায় হতাশ বনগাঁর মতুয়ারা। পবিত্র গোঁসাই বলেন, ‘বিজেপি তো মতুয়াদের ভোটেই জিতেছে। প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন একজন মতুয়ার নামও বাদ যাবে না। তবে বাস্তবে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ গেল।’ গোবরডাঙার মহানন্দ হালদার বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম নাগরিকত্ব এবং ভোটাধিকার নিয়ে মতুয়াদের হয়ে কিছু বলবেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু টুঁ শব্দ করলেন না।’ বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতির সভাপতি বিকাশ ঘোষ বলেন, ‘আগে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এসে স্পষ্টভাবে বলে গিয়েছেন, কোনো মতুয়ার নাম বাদ যাবে না। সিএএতে আবেদন করে এদেশের নাগরিকত্ব পাবেন তাঁরা। মতুয়াদের ভয়ের কিছু নেই।’ তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতা ঠাকুর বলেন, ‘বিজেপি মতুয়াদের যা সর্বনাশ করার করে দিয়েছে। এখন আর ওঁর কি বা বলার থাকবে। ভোট পাওয়ার পর তো ওঁদের স্বার্থ শেষ।’