


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পোশাকি নাম ই-টুয়েন্টি স্কিম। যারাই নিয়মিত গাড়ি অথবা টু হুইলারে পেট্রল পূর্ণ করে, তারাই জানে যে, মোদি সরকার এই স্কিমের মাধ্যমে পুরো দাম নিলেও ১০০ শতাংশ পেট্রল পাওয়া যায় না। মিশ্রিত থাকে ২০ শতাংশ ইথানল। যা জৈব জ্বালানি হিসাবেই ব্যবহৃত। সোজা কথায় দাম দেওয়া হয় ১০০ শতাংশ পেট্রলের, মেলে ৮০ শতাংশ। এই স্কিমের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য হয়েছিল আগেই। ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে সেই পরিকল্পনা সম্পূর্ণ সফল হয়েছে। অর্থাৎ গোটা দেশে এখন সর্বত্র সব পেট্রল পাম্পেই এভাবে ইথানল মিশ্রিত পেট্রলই কিনতে বাধ্য মানুষ। যা নিয়ে প্রবলভাবে আশঙ্কা গ্রাস করেছে গাড়ি মালিকদের। আশঙ্কা হল, এভাবে জ্বালানিতে ২০ শতাংশ জৈব জ্বালানি হিসাবে ইথানল ব্যবহার করা হলে গাড়ির ইঞ্জিন, কর্মক্ষমতা, মাইলেজ ইত্যাদিতে বিরূপ প্রভাব কতটা পড়বে? সরকারের দাবি, কোনো প্রভাব পড়বে না। যদিও বিতর্ক রয়েই যাচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আবহে ফের উদ্বেগবার্তা। জানা যাচ্ছে, ই টুয়েন্টি সাফল্যের পর এবার পেট্রল বাঁচাতে এবং সরকারি রাজকোষের ব্যয় কমাতে ২০ শতাংশের থেকেও এবার বেশি ইথানল মেশানোর সিদ্ধান্ত হতে পারে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তে কী লাভ হবে? পেট্রল আমদানি বাঁচিয়ে মুনাফা হবে। ২০১৫ থেকে ২০২৫— এই ১০ বছরে পেট্রলের সঙ্গে ইথানল মিশিয়ে সরকারি তেল সংস্থাগুলি দেড় লক্ষ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। এখনও পর্যন্ত পেট্রল-ডিজেলের দাম না বাড়ালেও যুদ্ধ যদি চলতেই থাকে, তাহলে একদিকে যেমন পেট্রপণ্যের দাম বাড়ার শঙ্কা জোরালো হচ্ছে, তেমনি আরও বেশি ইথানল মিশ্রিত পেট্রল ভারতবাসীকে কিনতে বাধ্য করা হতে পারে। গ্রেন ইথানল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন সরকারের কাছে চিঠি লিখে আবেদন করেছে, যেহেতু ই-টুয়েন্টি স্কিম পূর্ণমাত্রায় সফলতা পেয়েছে, এবার ২০ শতাংশ ছাপিয়ে আরও বেশি ইথানল মেশানোর কথা ভাবা যেতে পারে। ইথানল লবি সরকারের উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রবল চাপ সৃষ্টি করছে। বছরে ১১০০ কোটি লিটার এখন দরকার হচ্ছে ই-টুয়েন্টি স্কিমের মাধ্যমে। অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, ভারতে যেভাবে দ্রুত ইথানল শিল্প কারখানা বেড়ে চলেছে, বছরে ২০০০ কোটি লিটার ইথানল উৎপাদনের ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ এখনও পর্যন্ত যত ইথানল ব্যবহার করা হচ্ছে, তার মধ্যে ৫৫ শতাংশ মাত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। ওই ইথানল লবির দাবি যদি সরকার অন্তত ৩০ শতাংশ মিশিয়ে দেয় পেট্রলের সঙ্গে, তাহলে সরকারি তেল সংস্থাগুলির মুনাফা আরও বাড়বে। পাশাপাশি পেট্রল আমদানিও কম করতে হবে। যা রাজকোষের জন্য লাভজনক।