নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রবিবার দেশজুড়ে পালিত হল স্ট্যাটিসটিকস দিবস। দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট, সংক্ষেপে আইএসআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্তচন্দ্র মহলনবিশের জন্মদিন ২৯ জুন। এদিন বরানগরে আইএসআই মেইন ক্যাম্পাসের ওই অনুষ্ঠানে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন এখানকার একাধিক প্রবীণ অধ্যাপক। সংস্থার জন্য কেন্দ্রীয় অর্থ বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়াতে তাঁরা ক্ষুব্ধ।
অধ্যাপক কুন্তল ঘোষের প্রশ্ন, ‘দেশ ট্রিলিয়ন অর্থনীতিতে পৌঁছে গিয়েছে বলা হলেও গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ পাওয়া যাবে না কেন? কেন গবেষণার কাজের জন্য অর্থ পেতে অনুসন্ধান ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশনের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে?’ সরাসরি কারও নাম না নিয়েও প্রবীণ অধ্যাপক বলেন, ‘সুপারম্যানরা এখন সবকিছু ঠিক করছেন। বিশ্বজুড়েই চলছে এটা।’
আইএসআই হল কেন্দ্রীয় সংখ্যাতত্ত্ব ও প্রকল্প রূপায়ণ মন্ত্রকের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান। এই সংস্থার শিক্ষা ও গবেষণামূলক কাজ চালাতে কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে, তা আরও বিস্তারিতভাবে জানান আইএসআইয়ের ডিন অব স্টাডিজ অধ্যাপক বিশ্বব্রত প্রধান। ডিরেক্টর সঙ্ঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের সামনে বিশ্বব্রতবাবু বলেন, ‘আর্থিক সঙ্কট এখন এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, ছাত্রদের কম্পিউটার, ল্যাপটপ এমনকী ইন্টারনেট পরিষেবা দিতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। নতুন পড়ুয়া ভর্তির প্রেক্ষিতে শ্রেণিকক্ষ প্রভৃতিরও অভাব আছে। যা অবস্থা, পড়ুয়া কম ভর্তি হলেই ভালো হতো।’ তাঁর প্রশ্ন, ‘বিদেশি গবেষক এবং পড়ুয়ারা আইএসআইতে এখন আসছেন না কেন? উচ্চতর গবেষণা করতে আইএসআই থেকে অনেকেই বিদেশে যান। কিন্তু উল্টোটা কেন হবে না?’ তিনি জানান, আর্থিক সঙ্কটের জন্যই ভালো শিক্ষক পেতে সমস্যা হচ্ছে। দেশ-বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ করে এনে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন কমে গিয়েছে। কারণ এই বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থ দেওয়া হয় না। বাকি অর্থ নিজেদের জোগাড় করে নিতে বলা হয়। এদিনের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য অনুমোদন পেতেও যে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে, তারও উল্লেখ করেন তিনি। প্রবীণ অধ্যাপক বলেন, ‘আর্থিক সঙ্কটের জন্য আইএসআই ‘গুটিয়ে’ যাচ্ছে।’
আর্থিক সঙ্কট নিয়ে এসব অভিযোগ ওঠার আগেই বক্তব্য রাখেন সংস্থার ডিরেক্টর সঙ্ঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায়। আইএসআইয়ের ইতিহাসে এই প্রথম মহিলা ডিরেক্টর প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও কারিগরি সংক্রান্ত পরামর্শদাতা কমিটির অন্যতম সদস্য। ডিরেক্টর তাঁর ভাষণে অর্থসঙ্কটের সমস্যা মেনে নিয়ে আরও বলেন, ‘আমরা এসব নিয়ে কি শুধুই অভিযোগ জানিয়ে যাব, নাকি নিজেরা উদ্যোগী হয়ে এর থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করব?’ বহু প্রতিকূলতার মধ্যেও আইএসআই উন্নতি করবে বলে অবশ্য তিনি আশা প্রকাশ করেন। ডিরেক্টর জানান, তিনি সম্প্রতি আমেরিকার স্ট্যানফোর্ডসহ একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে আইএসআইয়ের ভূয়সী প্রশংসা শুনে এসেছেন।