


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ক্ষমতাসীন হওয়ার এক বছরের মধ্যেই মোদি সরকার ৩৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থার নাম তালিকাভুক্ত করেছিল বিক্রি করে দেওয়ার জন্য। তারপর থেকে বিগত ১০ বছরে প্রায় প্রতি বছর বাজেটে বিলগ্নিকরণের মাধ্যমে আয়ের বিপুল টার্গেট করা হয়েছে। কয়েক বছর আগেও ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিলগ্নিকরণ টার্গেট করা হয়। কিন্তু তারপর থেকে ক্রমেই দেখা যায় একের পর এক সরকারি ব্যাঙ্ক মুনাফা করছে। সরকারি সংস্থাগুলিও মুনাফা বাড়িয়ে লভ্যাংশ ক্রমেই বেশি করে দিচ্ছে সরকারকে। এরপরই মোদি সরকার বিলগ্নিকরণ টার্গেট কমাতে কমাতে কার্যত অঘোষিত পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। কারণ, যে সংস্থাগুলিকে দ্রুত বিক্রি করতে চাইছিল, তারাই উচ্চহারে ডিভিডেন্ড দিয়ে লাগাতার সরকারের রাজকোষ ভরিয়ে চলেছে। ২০২৫ সালে মোদি সরকার দাবি করছে, সরকারি সংস্থাগুলি যেন প্রত্যেকেই অন্তত ২৫ শতাংশ করে বেশি মুনাফার লভ্যাংশ দেয়। রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থাগুলিকে টার্গেটও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, এবার সব মিলিয়ে ৯০ হাজার কোটি টাকা লভ্যাংশ দিতে হবে সরকারকে ।
চলতি আর্থিক বছরের শেষে এই অঙ্ক পেতে চায় সরকার। যা বিগত আর্থিক বছরে ছিল ৭৪ হাজার কোটি টাকা। এখানেই শেষ নয়। সরকার থেকে স্পষ্ট বলা হয়েছে এতদিন যে নিয়ম ছিল সেই লভ্যাংশ প্রদানের সময়সীমাও বদলে যাচ্ছে। আগামী ত্রৈমাসিক থেকে তিন মাস অন্তর মুনাফার লভ্যাংশ দিতে হবে সরকারকে। এতদিন দেওয়া হত বার্ষিক। সরকারি ব্যাঙ্ক এবং সরকারি সংস্থাগুলি ২০২২ সালের পর থেকে আশাতীত মুনাফা করেছে। এবং সেই অনুযায়ী নিয়ম করে মুনাফার লভ্যাংশও দিয়েছে সরকারকে। সর্বশেষ যে রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে স্টেট ব্যাঙ্ক সর্বকালীন রেকর্ড মুনাফা করেছে। ৬৭ হাজার কোটি টাকা। সেই আবহে সরকারের নতুন এই নির্দেশ থেকে মনে করা হচ্ছে, সরকারি সংস্থাকে বিক্রির পরিবর্তে এখন তাদের মুনাফার অংশ দিয়ে রাজকোষ ভরানো সরকারের লক্ষ্য। কিন্তু সরকারি সংস্থাগুলির মাথায় হাত। কারণ হঠাৎ করেত ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত লভ্যাংশ দেওয়ার মতো মুনাফা তারা কোথা থেকে করবে?