


নয়াদিল্লি: ৭০ হাজার কোটি টাকার কমনওয়েলথ গেমস দুর্নীতি মামলাতেও স্বস্তি কংগ্রেসের। মনমোহন সিং জমানায় এই দুর্নীতির অভিযোগকে হাতিয়ার করেছিল বিজেপি। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারকে ২জির মতো এই কেলেঙ্কারির অভিযোগ নিয়েও তুলোধোনা করত নরেন্দ্র মোদির দল। অথচ সেই মোদি জমানাতেই কমনওয়েল্থ গেমস কেলেঙ্কারির তদন্তের ঝাঁপ বন্ধ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এব্যাপারে ২০১০ সালের কমনওয়েলথ গেমস আয়োজক কমিটির প্রাক্তন প্রধান সুরেশ কালমাদি, তৎকালীন সচিব ললিত ভানোট সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপ মামলায় ক্লোজার রিপোর্ট পেশ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ফলে ওই কেলেঙ্কারির অভিযোগ থেকে ক্নিনচিট মিলল কংগ্রেসের। এরপরই তেড়েফুঁড়ে আসরে নেমেছে হাতশিবির। বিজেপির পাশাপাশি আম আদমি পার্টি (আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালকেও নিশানা করছে তারা। দলের সাংসদ জয়রাম রমেশ বলেছেন, পুরো অভিযোগটাই ছিল রাজনৈতিক অপপ্রচার। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিতের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছিল। এজন্য বিজেপি ও কেজরিওয়ালের ক্ষমা চাওয়া উচিত।
এক বিবৃতিতে রমেশ বলেছেন, ২০১৪ সালের আগে ২জি ও কমনওয়েলথের মতো দুর্নীতির অভিযোগ সাজানো হয়েছিল। এজন্য বিজেপি ও কেজরিওয়াল হাতে হাতে মিলিয়ে কাজ করেছিলেন। এখন আদালতে প্রকৃত সত্য সামনে এসেছে। আদালত ইডির ক্লোজার রিপোর্ট গ্রহণ করেছে। দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য মোদি ও কেজরিওয়ালকে ক্ষমা চাইতে হবে।
২০১০ সালে কমনওলেথ গেমস আয়োজন ঘিরে মনমোহন সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। ইউপিএ জমানার দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই দ্য ইন্ডিয়া এগেনস্ট করাপশন মুভমেন্ট গড়ে উঠেছিল। এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কেজরিওয়াল। এই অভিযোগ ঘিরে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছিল। বিশেষ বিচারক সঞ্জীব আগরওয়াল উল্লখ করেছেন, যার মামলার ভিত্তিতে ইডি আর্থিক তছরুপের তদন্ত শুরু করেছিল, সেই সিবিআই ইতিমধ্যেই তদন্ত বন্ধ করেছে। সেজন্য ইডির ক্লোজার রিপোর্ট গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেছেন, কোনও তথ্যপ্রমাণই পেশ করতে পারেনি ইডি।