নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: ভোট প্রক্রিয়া মিটে গিয়েছে। এবার উঠে গেল আদর্শ আচরণ বিধিও। বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ সহ পাঁচ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সেই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া যে সব রাজ্যে উপনির্বাচন ছিল, সেখান থেকেও ‘মডেল কোড অব কন্ডাক্ট’ প্রত্যাহার করা হয়েছে। একমাত্র ব্যতিক্রম ফলতা। বাংলার এই আসনে ভোট ২১ মে। তাই আচরণ বিধি জারি থাকছে সেখানে। তবে ভোটপর্ব পুরোপুরি মিটে যাওয়ায় এ রাজ্যে বিশেষ নির্বাচনি পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত ও বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক এন কে মিশ্রকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ভোট মিটে গেলেও পশ্চিমবঙ্গে কতদিন ৭০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে, সেব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন রাজ্য পুলিশের ডিজি। কমিশন আর এব্যাপারে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। নির্দেশও দেবে না। তবে দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অফিসে তা জানিয়ে দিতে হবে। তবে ভোট মিটতেই জেলায় জেলায় সংঘর্ষ এবং বুধবার রাতে বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক খুন হওয়ার ঘটনায় কমিশন কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে। যদিও চন্দ্রনাথ খুনের বিষয়টি নাকি তাদের এক্তিয়ারে পড়ে না! কমিশনের শীর্ষ সূত্রে জানানো হয়েছে, এটি ক্রাইম বা অপরাধের আওতায় পড়ে। কমিশন দেখে ভায়োলেন্স, অর্থাৎ হিংসা। এব্যাপারে রাজ্য পুলিশের ডিজি, জেলাশাসক, এসপিদের কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ আগেই দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সেই মতো পুলিশ কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তার উপর নজরদারিও করেছেন।
এবার পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন হিংসাহীন, ভয়হীন, ছাপ্পাহীন ও প্রভাবমুক্ত করাই ছিল জ্ঞানেশ কুমারের চ্যালেঞ্জ। তিনি একপ্রকার সফল বলেই কমিশনের দাবি। কারণ, ২০২১ সালের তুলনায় এবার ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনাও অতি নগণ্য। তবে যতটুকুও হয়েছে, তা প্রত্যাশিত নয় বলেই কিছুটা অস্বস্তিতে কমিশন।
এবারের নির্বাচন পর্বে পশ্চিমবঙ্গ সহ ৫ রাজ্য থেকে মোট ১ হাজার ৪৪৪ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা মূল্যের হিসাব বহির্ভূত, বেআইনি সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করছে কমিশন। গত বিধানসভা নির্বাচন পর্বে যা ছিল ১ হাজার ২৯ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকা। এবার এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে তামিলনাড়ু। সেখানে নগদ ১০৫ কোটি টাকা সহ বাজেয়াপ্ত হয়েছে ৬৬২ কোটি ২৮ লক্ষ টাকার সামগ্রী। বাংলায় এই অঙ্কটা ৫৭৩ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা। কমিশন জানিয়েছে, এর মধ্যে ৩১ কোটি ১৪ লক্ষ টাকাই নগদ। মদ বাজেয়াপ্ত হয়েছে ৫৮ লক্ষ লিটার, যার আর্থিক মূল্য ১৫১ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা। এছাড়া ১৩০ কোটি টাকার মাদক এবং ৬৯ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকার সোনা রুপোর মতো মূল্যবান ধাতু।