নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বেলেঘাটা বিল্ডিং মোড় থেকে বাসে উঠেছিলেন অবিনাশ চক্রবর্তী। রুবি মোড়ের কাছেই তাঁর অফিস। সকালের অফিস টাইমে বেসরকারি বাসে তিলধারণের জায়গা নেই। পিঠে থাকা অফিসের ব্যাগটি খুলে সামনে নিয়ে নেন অবিনাশ। কিন্তু বাস থেকেই নেমে ফোনের নোটিফিকেশন দেখার জন্য পকেটে হাত পৌঁছতেই চক্ষুচড়কগাছ। ফোন কোথায়? জিন প্যান্টের চারটি পকেটই তন্নতন্ন করে খোঁজ করেও মিলল না তাঁর নতুন আইফোন-১৫।
কলকাতা পুলিসের দ্বারস্থ হন অবিনাশ। এরপরেই তদন্তে চুরি যাওয়া আইফোনটি উদ্ধার করে গোয়েন্দা বিভাগ। গ্রেপ্তার করা হয় এক যুবককে। তাঁকে জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে কলকাতা পুলিস। বাইপাস জুড়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে মোবাইল ছিনতাই চক্র। শহরের এই অংশে প্রতি মাসে অন্তত ৭-৮টি করে মোবাইল ছিনতাই ও চুরির অভিযোগ আসছে পুলিসের কাছে। ধৃত যুবক জেরায় জানিয়েছে, চিংড়িঘাটা থেকে অজয়নগর—বাইপাসের এই ৯ কিমি জুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পকেটমার ও ছিনতাইবাজরা। মূলত ভিড় অফিস টাইমকেই টার্গেট করছে তারা। দু’ভাবে মোবাইল হাতানোর কাজ চালাচ্ছে দুষ্কৃতী চক্র। প্রথমত, ভিড় বাসে পকেটমারি চলছে দেদার। তদন্তকারীদের দাবি, টেগর পার্ক, রুবি, কালিকাপুরে নেমে যাচ্ছে পকেটমাররা। পাশাপাশি, জনবহুল বাসস্ট্যান্ড থেকেই কেপমারি চালাচ্ছে তারা। টার্গেট আইফোন।
পুলিস সূত্রের খবর, আইফোনের চাহিদা এই মুহূর্তে চোরাই বাজারে সবচেয়ে বেশি। চোরাই ফোন ‘রি-সেট’ করে শহরের বিভিন্ন বাজারে বেআইনিভাবে বিল ছাড়া আম জনতাকে বিক্রি করা হয়। ধৃত যুবক পুলিসকে জানিয়েছে, সেই সমস্ত মার্কেটে আইফোন যোগান দেয় দুষ্কৃতী চক্র। ‘লেটেস্ট’ মডেলের সেট প্রতি ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয় আইফোন। মডেল একটু পুরনো হলে কমে যায় দাম। ১১, ১২, ১৩ মডেলের ফোন বিক্রি হচ্ছে ১০-১২ হাজারে। তুলনায় অন্যান্য কোম্পানির ফোনের দাম খুব বেশি হলে ৫-৮ হাজার টাকা। তাই এখন পকেটমারিতে আইফোন ব্যবহারকারীদের টার্গেট করছে বাইপাসের ছিনতাই চক্র। শেষ তিনমাসে ২০টির বেশি আইফোন চুরির অভিযোগ পেয়েছে লালবাজার। পরপর চুরির ঘটনায় টনক নড়েছে লালবাজারের। বিষয়টি ইতিমধ্যেই ভারপ্রাপ্ত গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমারের কানে পৌঁছেছে।



