Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দুই গ্যাংস্টারের সেলে তল্লাশি চালিয়ে মিলল মোবাইল ফোন-সিম ও ডঙ্গল

পুরুলিয়ার জেলে বসে বিহারের তিনটি জুয়েলারি শপে ডাকাতির পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

দুই গ্যাংস্টারের সেলে তল্লাশি চালিয়ে মিলল মোবাইল ফোন-সিম ও ডঙ্গল
  • ৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: পুরুলিয়ার জেলে বসে বিহারের তিনটি জুয়েলারি শপে ডাকাতির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পুরুলিয়ায় সোনা লুটের ঘটনায় ধরা পড়া জেলবন্দি দুই গ্যাংস্টার শেরু সিং ও চন্দন কুমারের নির্দেশমতো তাদের শাগরেদরা বিহারে পরপর সোনার দোকানে লুট করছিল। তথ্যপ্রমাণ আসার পরই সেই মামলার তদন্তে রাজ্যে এল বিহার পুলিসের এসটিএফ। পুরুলিয়া জেলে তাদের সেলে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয়েছে মোবাইল, সিম কার্ড, ডঙ্গল সহ নানা ইলেকট্রনিক ডিভাইস। ধৃত দুজনকেই আজ বৃহস্পতিবার বিহারে নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। অপরাধ জগতে এই দু’জন কুখ্যাত গ্যাংস্টার (বর্তমানে এ রাজ্যের জেলে বন্দি) সুবোধ সিংয়ের ‘ছাত্র’ বলে পরিচিত। 

Advertisement

২০২৩ পুরুলিয়ায় নামী সোনার দোকান থেকে দুষ্কৃতীরা কয়েক কোটি টাকার সোনা ও নগদ ডাকাতি করে পালায়।  ধরা পড়ে বিহারের কুখ্যাত ডাকাত গ্যাংয়ের শেরু সিং ও চন্দন কুমার। তারপর থেকে তারা পুরুলিয়ায় জেল বন্দি। গত মার্চ মাসের ১০ তারিখে বিহারের আরা শহরের গোপালি চকে নামী জুয়েলারি সংস্থার দোকান থেকে লুট হয় ২৪ কোটি টাকা মূল্যের সোনা ও বিপুল পরিমাণ নগদ।  ডাকাতি করে বাইকে চেপে পালানোর সময় দু’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। উদ্ধার হয় ১৫ কোটি টাকা মূল্যের গয়না। ডাকাত দলের বাকি সদস্য ও বাকি সোনার গয়নার সন্ধান চালাচ্ছে ভোজপুর জেলা পুলিস। 
বিহার এসটিএফ সূত্রে খবর এই দুজনকে জেরা করতেই চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। জানা যায়, অভিযুক্তরা শেরু সিং ও চন্দনের গ্যাংয়ের সদস্য। দুই ‘বসের’ নির্দেশমতো তারা অপারেশন চালিয়েছে।  পুরুলিয়ার জেল থেকে তাদের কাছে নির্দেশ এসেছিল। ধরা পড়া দুই অভিযুক্তের মোবাইল থেকেও জানা যায়, কল এসেছে পুরুলিয়া জেল থেকে। বিহার এসটিএফের এডিজি কুন্দন কৃষ্ণণ জানিয়েছেন তার ভিত্তিতে কয়েকদিন আগে পুরুলিয়া জেলে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় শেরু ও চন্দনকে। চন্দনের সেল থেকে উদ্ধার হয়েছে মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, ব্লু-টুথ ও ডঙ্গল। যদিও পুরুলিয়া জেল সুপার স্বতন্ত্র কুমার দাস দাবি করেছেন, সেখান খেকে কিছু পাওয়া যায়নি।
বিহার এসটিএফ দাবি করেছে, দুই অভিযুক্ত  জেরায় জানিয়েছে পুরুলিয়া  জেলে বসে বিহারে নিজেদের গ্যাংকে সক্রিয় রেখে নানা অপারেশন চালাচ্ছে তারা। ফোনে নির্দেশ যাচ্ছে শাগরেদদের কাছে। কোথায় কোথায় নতুন নতুন জুয়েলারি শপ তৈরি হয়েছে, সেই সংক্রান্ত খবর শেরু ও চন্দনকে দিচ্ছিল শাগরদেরা। তাদের পরিকল্পনামতো ভোজপুর, পূর্ণিয়া ও পাটনায় পরপর তিনটি দোকানে লুট করা হয়েছে কয়েক কোটি টাকার সোনা। বারবার সিম বদলে তারা ফোন করত শাগরেদদের। উদ্ধার হওয়া সিমকার্ডের কল ডিটেইলস ঘেঁটে তদন্তকারীরা জেনেছেন পুরুলিয়া জেলে বসে দুই অভিযুক্ত একাধিকবার ফোন করেছে শাগরেদদের। লুটের পর সোনা কোথায় জমা হবে, তাও নির্দেশ দিয়েছে। জেলে রীতিমতো ‘অফিস’ খুলে গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করছিল। কিন্তু কীভাবে জেলের মধ্যে বসে ফোন করে তারা এই সাম্রাজ্য চালাচ্ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিহার এসটিএফ। আদালতের নির্দেশ মতো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের বিহার নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।  

সম্পর্কিত সংবাদ