নয়াদিল্লি: লক্ষ্য একটাই। ইতিহাসে নিজের নাম অমর-অক্ষয় করে রাখা। সেই কারণেই তাঁর প্রথম ইনিংসে এসেছে নোট বাতিল। দ্বিতীয় দফায় সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ বিলোপ ও রামমন্দির। এবার ক্ষমতার অলিন্দে বিচরণের তৃতীয় ইনিংসে ‘এক দেশ এক ভোট’ চালু করতে মরিয়া নরেন্দ্র মোদি। তাঁর সাধ পূরণে সেই নীতি কার্যকর করার পথে আরও একধাপ এগল কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার তরফে এই নীতিতে সবুজ সঙ্কেত দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং। সূত্রের খবর, চলতি শীতকালীন অধিবেশনেই সংসদে এ সংক্রান্ত বিল পেশ করা হতে পারে।
Advertisement
প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সেপ্টেম্বরে এই প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। কমিটির তরফে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের সঙ্গে পুরসভা ও পঞ্চায়েত ভোট করার কথাও বলা হয়েছিল। সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে অবশ্য শুধুমাত্র লোকসভা ও বিধানসভা ভোট একসঙ্গে করার বিষয়ে খসড়া বিলে সম্মতি দিয়েছে মন্ত্রিসভা। কারণ এক্ষেত্রে অন্তত ৫০ শতাংশ রাজ্যের বিধানসভার কোনও অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। কোবিন্দ কমিটির তরফে এর সঙ্গেই পুরসভা ও পঞ্চায়েত ভোট করার জন্য একটি নতুন অনুচ্ছেদ ৩২৪এ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেক্ষেত্রে অর্ধেক রাজ্যের বিধানসভার অনুমোদন প্রয়োজন। সেই জন্যই স্থানীয় স্তরের নির্বাচন নিয়ে আপাতত ‘ধীরে চলো’ নীতি নিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।
নরেন্দ্র মোদির এই দীর্ঘলালিত সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সিলমোহর পড়তেই প্রতিবাদে গর্জে উঠেছেন মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’র অন্যতম বিরোধী মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডলে বিজেপির কড়া সমালোচনা করে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘এক দেশ, এক নির্বাচন বিল অসংবিধানিক ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী। এনিয়ে বিরোধী নেতৃত্ব ও বিশেষজ্ঞরা একাধিকবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা গায়ের জোরে এই বিল আনছে। এটা সুচিন্তিত কোনও সংস্কার নয়। ভারতের গণতন্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে গুঁড়িয়ে দিতে এটা একটা ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ। সংসদে আমাদের এমপিরা শেষ পর্যন্ত এই স্বৈরাচারী আইনের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। দিল্লির স্বেচ্ছাচারিতার সামনে বাংলা কিছুতেই মাথা নত করবে না। এই লড়াই একনায়কতন্ত্রের হাত থেকে ভারতের গণতন্ত্রকে বাঁচানোর লড়াই।’ মমতার সুরেই বিজেপি সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে কংগ্রেস সাংসদ কে সুরেশ বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছি।’ পাল্টা ‘এক দেশ, এক ভোট’ চালুর পক্ষে বুধবার জোরদার সওয়াল করেছেন শিবরাজ সিং চৌহান। বছরভর নির্বাচন হওয়ার ফলে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীর। বিজেপির জোটসঙ্গী লোক জনশক্তি পার্টির সাংসদ সম্ভবী চৌধুরীও এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশন নিয়ে আগামী দিনে সরকার বনাম ‘ইন্ডিয়া’র বিরোধ যে তীব্র হতে চলেছে, তা স্পষ্ট।
এনিয়ে শাসক-বিরোধী লড়াই যে শুধু কথাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, এমনটা নয়। কারণ ‘এক দেশ এক ভোট’ চালুর জন্য সংবিধানের অন্তত পাঁচটি অনুচ্ছেদ সংশোধন করতে হবে। তার জন্য সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন। কেমন সে হিসেব? ধরা যাক, বিল পাশের সময় লোকসভায় ৫৪৩ সাংসদই উপস্থিত রয়েছেন। সেক্ষেত্রে এনডিএ-র প্রয়োজন ৩৬২ ভোট। অথচ তাদের হাতে রয়েছে ২৯২টি। অন্যদিকে, রাজ্যসভায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেতে হলে গেরুয়া শিবিরের প্রয়োজন ১৬৪ সাংসদের সমর্থন। এনডিএর এমপি সেখানে ১১৩ জন। মনোনীত ৬ জন সাংসদের ভোটও তারাই পাবেন বলে ধরে নেওয়া যায়। তাহলে তারা কীভাবে এই বিল পাশ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হচ্ছে? কিছু সাংসদ গরহাজির বা ভোটদানে বিরত থাকলে উভয় কক্ষেই এই অঙ্ক বদলে যাবে বলে জল্পনার চোরা স্রোত চলছে দিল্লির দরবারে। কিংবা একঝাঁক এমপি ওয়াক আউট করলেও বদলাবে সমীকরণ। সুবিধা পাবে শাসক বিজেপি। কিন্তু এই সম্ভাবনা কি বাস্তব রূপ নেবে? অভিষ্ট স্বপ্নপূরণে আপাতত এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নরেন্দ্র মোদির।
নরেন্দ্র মোদির এই দীর্ঘলালিত সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সিলমোহর পড়তেই প্রতিবাদে গর্জে উঠেছেন মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’র অন্যতম বিরোধী মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডলে বিজেপির কড়া সমালোচনা করে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘এক দেশ, এক নির্বাচন বিল অসংবিধানিক ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী। এনিয়ে বিরোধী নেতৃত্ব ও বিশেষজ্ঞরা একাধিকবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা গায়ের জোরে এই বিল আনছে। এটা সুচিন্তিত কোনও সংস্কার নয়। ভারতের গণতন্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে গুঁড়িয়ে দিতে এটা একটা ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ। সংসদে আমাদের এমপিরা শেষ পর্যন্ত এই স্বৈরাচারী আইনের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। দিল্লির স্বেচ্ছাচারিতার সামনে বাংলা কিছুতেই মাথা নত করবে না। এই লড়াই একনায়কতন্ত্রের হাত থেকে ভারতের গণতন্ত্রকে বাঁচানোর লড়াই।’ মমতার সুরেই বিজেপি সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে কংগ্রেস সাংসদ কে সুরেশ বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছি।’ পাল্টা ‘এক দেশ, এক ভোট’ চালুর পক্ষে বুধবার জোরদার সওয়াল করেছেন শিবরাজ সিং চৌহান। বছরভর নির্বাচন হওয়ার ফলে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীর। বিজেপির জোটসঙ্গী লোক জনশক্তি পার্টির সাংসদ সম্ভবী চৌধুরীও এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশন নিয়ে আগামী দিনে সরকার বনাম ‘ইন্ডিয়া’র বিরোধ যে তীব্র হতে চলেছে, তা স্পষ্ট।
এনিয়ে শাসক-বিরোধী লড়াই যে শুধু কথাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, এমনটা নয়। কারণ ‘এক দেশ এক ভোট’ চালুর জন্য সংবিধানের অন্তত পাঁচটি অনুচ্ছেদ সংশোধন করতে হবে। তার জন্য সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন। কেমন সে হিসেব? ধরা যাক, বিল পাশের সময় লোকসভায় ৫৪৩ সাংসদই উপস্থিত রয়েছেন। সেক্ষেত্রে এনডিএ-র প্রয়োজন ৩৬২ ভোট। অথচ তাদের হাতে রয়েছে ২৯২টি। অন্যদিকে, রাজ্যসভায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেতে হলে গেরুয়া শিবিরের প্রয়োজন ১৬৪ সাংসদের সমর্থন। এনডিএর এমপি সেখানে ১১৩ জন। মনোনীত ৬ জন সাংসদের ভোটও তারাই পাবেন বলে ধরে নেওয়া যায়। তাহলে তারা কীভাবে এই বিল পাশ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হচ্ছে? কিছু সাংসদ গরহাজির বা ভোটদানে বিরত থাকলে উভয় কক্ষেই এই অঙ্ক বদলে যাবে বলে জল্পনার চোরা স্রোত চলছে দিল্লির দরবারে। কিংবা একঝাঁক এমপি ওয়াক আউট করলেও বদলাবে সমীকরণ। সুবিধা পাবে শাসক বিজেপি। কিন্তু এই সম্ভাবনা কি বাস্তব রূপ নেবে? অভিষ্ট স্বপ্নপূরণে আপাতত এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নরেন্দ্র মোদির।



