নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: রাজ্যে স্থগিত হয়ে গিয়েছে বিজেপির মণ্ডল সভাপতি নির্বাচন। তাতেও অবশ্য থামছে না বারাসতে বিজেপির অন্দরে কোন্দল। বরং তা যেন আরও বেআব্রু হয়ে পড়ছে। অন্তর্দলীয় আকচাআকচির ফলে এমনিতেই ল্যাজেগোবরে অবস্থা বিজেপির। কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে টাকার বিনিময়ে দলীয় পদ বণ্টনের অভিযোগ। এনিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে দলের অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও ক্ষোভ আছড়ে পড়েছে। এই আবহে বারাসত সাংগঠনিক জেলার মধ্যমগ্রাম ৪ নং মণ্ডলের সভাপতির নামে পোস্টার পড়ল জেলা কার্যালয়ে। সেই পোস্টারে মণ্ডল সভাপতি সাগর বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ আনা হয়েছে সরাসরি। বৃহস্পতিবার সকালে দলের জেলা কার্যালয় চত্বর ওই পোস্টারে ছয়লাপ হয়ে থাকতে দেখা যায়। তা নিয়ে তুমুল শোরগোল পড়ে বারাসতের রাজনৈতিক মহলে।
Advertisement
জানা গিয়েছে, মধ্যমগ্রাম ৪ নং মণ্ডলের সভাপতি সাগর বিশ্বাস ফের ওই পদ পেতে চলেছেন। তার আগে এরকম একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বিজেপি নেতাকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, গত লোকসভা নির্বাচনে মধ্যমগ্রাম মণ্ডলের জন্য যে টাকা এসেছিল, সেই টাকা খরচে অনিয়ম হয়েছে। সঠিকভাবে হিসেব দিতে পারেননি তিনি। মধ্যমগ্রামে বিজেপির অবস্থাও খারাপ হয়েছে। এরকম একজনকে আগামী দিনে পুনরায় মণ্ডল সভাপতি করার সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া যাবে না। এই দাবিতে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি বারাসত সাংগঠনিক জেলা বিজেপি কার্যালয়ে পোস্টার পড়ে। বিজেপি নেতা রাজু পাল, পলাশ মণ্ডল বলেন, ‘অনৈতিকভাবে দলের একাংশকে অন্ধকারে রেখে সাগর বিশ্বাসকে আবার মণ্ডল সভাপতি করা হচ্ছে। এতে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। তাই আমরা চাই নতুন কাউকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হোক। জেলা সভাপতিকে বলেও কাজ হয়নি।’ এ বিষয়ে বারাসত সংগঠনিক জেলা বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তাপস মিত্র বলেন, ‘ক্ষোভ থাকলে তা দলীয় স্তরে জানানো উচিত। এভাবে পোস্টার দেওয়া ঠিক হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর পিছনে তৃণমূলের উস্কানিও থাকতে পারে।’ বিজেপির এই ঘরোয়া কাজিয়াকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল। বারাসত সংগঠনিক জেলার আইএনটিটিইউসি সভাপতি তাপস দাশগুপ্ত বলেন, ‘বিজেপি একটা প্রাইভেট কোম্পানি। প্রতিবার নির্বাচনের সময় দিল্লি থেকে টাকা আসে। সেই টাকা নিয়ে কেলেঙ্কারি তো ওদের চেনা ছবি। এখন নিজেদের দোষ ঢাকতে গল্প তৈরি করছে বিজেপি।’



