নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ২১ কাঠা জমি। বর্তমান মূল্য ২ কোটি টাকার উপর। তাই দলিলটি পরম যত্নে আলমারিতে রেখেছিলেন জমির মালিক। সেই জমি মিউটেশন করাতে গিয়ে তাঁর মাথায় বাজ পড়ার অবস্থা! কারণ, বিএলআরও অফিস থেকে তাঁকে জানানো হয়েছে, ‘আপনার জমি তো বিক্রি হয়ে গিয়েছে’! অথচ, জমির মালিক কিছু জানেন না! এরপর তিনি সটান রাজারহাট থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জমি জালিয়াতির কিনারা করল রাজারহাট থানা। গ্রেপ্তার করা হয়েছে চারজন দালালকে। তদন্তে জানা গিয়েছে, মালিক সেজে ওই জমি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে অন্য ব্যক্তিকে।
Advertisement
পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের নাম অনুপ সাউ, শাহজাহান আলি, কৌশিক মুখোপাধ্যায় ও বাবুল হোসেন। বাবলুর বাড়ি ভাঙড়ের পোলেরহাটের গাজিপুরে। বাকি তিনজনের বাড়ি রাজারহাট থানা এলাকায়। বুধবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যে ব্যক্তি মালিক সেজে এই কাজ করেছে, সে পলাতক। তার খোঁজে তল্লাশি চলছে। পুলিস জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। বৃহস্পতিবার ধৃত চারজনকে বারাসত জেলা আদালতে পেশ করা হয়েছিল। তদন্তের স্বার্থে তাদের পুলিসি হেফাজতে নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। আসল জমি মালিকের বাড়ি রাজারহাট থানার জগদীশপুর এলাকায়। সেখানে নিউটাউন মেট্রো করিডরের পাশেই তাঁর ২১ কাঠা জমি। সরকারিভাবে যার দাম ২ কোটি টাকার উপরে। সম্প্রতি, তিনি রাজারহাট বিএলআরও দপ্তরে ওই জমির মিউটেশন করাতে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁর জমি বিক্রি হয়ে গিয়েছে। প্রথমে দুশ্চিন্তায় পড়লেও পরে জমির মালিক বুঝে যান, তাঁর সঙ্গে জালিয়াতি হয়েছে। এরপরই তিনি পুলিসের দ্বারস্থ হন। জানা গিয়েছে, মালিক সেজে শুধু জালিয়াতি করা হয়নি, সেই সঙ্গে আসল দলিল জাল করা হয়েছে। এমনকী, আসল জমি মালিকের আধার কার্ড, প্যান কার্ডও জাল করা হয়েছে। এই চক্রে আরও কেউ যুক্ত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।



