সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়া, কেতুগ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে ভাগীরথী। নদীর অপর পাড়ে নদীয়া জেলা রয়েছে। প্রতিদিন নদীয়া জেলার নদী পাড়ের কয়েক হাজার মানুষ কাটোয়া, কেতুগ্রাম দিয়ে যাতায়াত করেন। তাঁদের যাতায়াতের মূল যোগাযোগ ব্যবস্থাই নৌকা। আর নদী পার হতে গিয়ে প্রতি বছরেই তলিয়ে যাওয়ার ঘটনাও বাড়ছে। তাই নৌকা নয়, এবার কেতুগ্রামে উদ্ধারণপুর থেকে নদীয়া জেলার ভাগ্যবন্তপুর সেতুর দাবি তুলেছেন বাসিন্দারা। সেই দাবি পূরণ করতে বিধানসভায় সরব হয়েছেন বিধায়ক। কেতুগ্রামের বিধায়ক অনাদি ঘোষ বিধানসভায় জানান, দ্রুত যাতায়াতের জন্য ফেরি পরিষেবা নয়, উদ্ধারণপুর থেকে নদীয়া জেলার ভাগ্যবন্তপুর সেতু তৈরি প্রয়োজন।
নদীয়া জেলার নদী লাগোয়া গ্রামগুলির বাসিন্দারা পূর্ব বর্ধমান জেলার উপরেই বেশি নির্ভরশীল। কৃষিজ পন্য সবজি থেকে দুধ সহ নানা জিনিসপত্র বিক্রি করতে নদীয়াব জেলার মানুষ আসেন পূর্ব বর্ধমান জেলাতে। তাছাড়া স্কুল, কলেজ থেকে চিকিৎসা পরিষেবা নিতেও আসেন বহু মানুষ। তাঁদের ভরসা নৌকা। তবে আবহাওয়া খারাপ একদিকে যেমন নদী পারাপারে ঝুঁকি থাকে, অপরদিকে রাতে জরুরি প্রয়োজন হলে ফেরি বন্ধ থাকায় তা সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। প্রসঙ্গত, কাটোয়া, কেতুগ্রামের বেশ কয়েকটি গ্রাম আবার নদীয়া জেলার মূল ভূ-খণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। ফলে বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি নদীর উপর স্থায়ী সেতু হোক। কাটোয়া শহর বীরভূম, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ জেলার মূল সংযোগস্থল। কেতুগ্রামের বন্দর মোড় দিয়ে মুর্শিদাবাদ জেলায় সহজেই যেমন যাওয়া যায়। তেমনি আবার ফুঁটিসাকো দিয়ে বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ দুই জেলাতেই যাওয়া যায়। পাশাপাশি কাটোয়া থেকে উত্তরবঙ্গগামী বহু ট্রেন চলাচল করে। নদীয়া জেলার ভাগীরথীর পাড়ে পুরো একটা বিধানসভা এলাকা অবস্থিত রয়েছে। বিজেপি ভোটের আগে কেতুগ্রাম-২ ব্লকের সীতাহাটি পঞ্চায়েতের উদ্ধারণপুর থেকে নদীয়া জেলার ভাগ্যবন্তপুর পর্যন্ত একটা স্থায়ী সেতুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। পাশাপাশি আবার কাটোয়া-বল্লভপাড়াতেও ভাগীরথী নদীর উপর সেতুর প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী ইস্তেহারে দেওয়া হয়েছিল।
কেতুগ্রামের উদ্ধারণপুর থেকে ভাগ্যবন্তপুর এবার সেতু নির্মানের জন্য সরব হয়েছেন খোদ বিধায়ক। তিনি বলেন, নৌকা পার হতে গিয়ে মানুষকে কত ঝুঁকি পোহাতে হয়। তা আমার থেকে কেউ ভালো জানেন না। কারণ আমাকেও প্রতিদিন নৌকা পেরিয়ে যাতায়াত করতে হয়। তাই সেতু হলে এলাকার অর্থনৈতিক চেহারার বদলও ঘটবে। অন্যদিকে ১৯৮৪ সালে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার কাটোয়া-বল্লভপাড়া ফেরিঘাট তৈরি করে। ভাগীরথীর নদীর কাটোয়া শহরে ফেরিঘাটে জেটি করে নৌকা দিয়ে যাত্রী পারাপার শুরু করে। পূর্ব বর্ধমান জেলার মধ্যে অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ জলপথে দৈনিক গড়ে ৩৫-৪০ হাজার মানুষ যাতায়াত করে থাকে। উদ্ধারণপুর-ভাগ্যবন্তপুর ফেরিঘাট দিয়েও প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত। তবে দুই পারের বাসিন্দারা চাইছেন পাকা সেতু হোক। তাহলে পূর্ব বর্ধমানের এসটিকেকে রোডের সঙ্গে নদীয়ার ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের যোগাযোগ আরও সহজ হবে। বাণিজ্যের দিকেও উপকৃত হবে।