নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: খড়দহ স্টেশন রোডের যানজট সমস্যা স্রেফ ভোটের ইস্যু হিসাবে থেকে গিয়েছে। দশকের পর দশক ধরে উড়ালপুলের আশ্বাস শুনে ক্লান্ত খড়দহবাসী। সম্প্রত স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তীর একটি চিঠিকে ঘিরে শহরবাসী নতুন করে আশার আলো দেখছেন। কল্যাণবাবু রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী ও রেল মন্ত্রককে এই উড়ালপুল তৈরির বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন। একই সঙ্গে শান্তিনগর থেকে পানশিলা পর্যন্ত একটি ‘এলিভেটেড গ্রিন করিডর’-এর প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। এই দুই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে খড়দহ, পানিহাটিসহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘ বাম জমানা হোক বা ১৫ বছরের তৃণমূল জমানা—খড়দহ স্টেশন রোডে যানজট সমস্যা সমাধানে উড়ালপুল নিয়ে পরিকল্পনার অভাব ছিল না। বাম আমলের অর্থমন্ত্রী অসীম দাশগুপ্ত ও তৃণমূল জমানার অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রের বিধানসভা কেন্দ্র ছিল এই খড়দহ। তাই সমাধানের বিষয়ে মানুষ আশাবাদী ছিল। কিন্তু বাম জমানায় জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটে আটকে যায় উড়ালপুল তৈরির উদ্যোগ। ছোটো ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে উড়ালপুল তৈরির বিরোধিতায় রাস্তায় নেমেছিল তৎকালীন বিরোধী তৃণমূল। তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন একাধিক পরিকল্পনা, বহু মাপজোক হয়েছে। কিন্তু একটি ইটও গাঁথা হয়নি। বরং গত দু’দশকে এখানে যানজটের যন্ত্রণা বেড়েছে কয়েক গুন।
২৬-এর বিধানসভা ভোটে সব দলই এই উড়ালপুল তৈরি করে যানজট সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিল। মানুষ ভরসা রেখেছে বিজেপির উপর। বিধায়ক কল্যাণ চক্রবর্তী মন্ত্রীও হয়েছেন। এবারও আশার আলো দেখছেন এলাকাবাসী।
খড়দহ স্টেশনের পশ্চিম দিকে বি টি রোড এবং পূর্ব দিকে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় খড়দহ স্টেশন রোড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিয়ালদহ-বারাকপুর লাইনে লোকাল ট্রেনের সংখ্যাও অনেক বেশি। ফলে দিনের ব্যস্ত সময়ে বারবার রেলগেট ফেলতে হয়। দীর্ঘ হতে থাকে যানজট। অনেক সময় এত ট্রাফিকের চাপ থাকে যে রেলগেট ফেলাই যায় না। তখন স্টেশনে আটকে থাকে ট্রেনও। ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যুর একাধিক ঘটনাও ঘটেছে। এই অবস্থায় সম্প্রতি মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তী রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দারকে চিঠি দিয়ে দু’টি প্রস্তাব দিয়েছেন। তাতে খড়দহ স্টেশনের উপর আধুনিক রোড ওভারব্রিজ তৈরি করার কথা বলা হয়েছে। ওই ব্রিজের নাম নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর সহধর্মিনী মাতা জাহ্নবাদেবীর নামে রাখার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। অপর প্রস্তাবে তিনি শান্তিনগর থেকে পানশিলা পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার অংশে জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই খড়দহ খালের উপর দিয়ে চার লেন বিশিষ্ট এলিভেটেড ফ্লাইওভারের প্রস্তাব দিয়েছেন। একেই তিনি উল্লেখ করেছেন ‘গ্রিন এলিভেটেড করিডর’ বলে। ইতিমধ্যে কেএমডিএ, পিডব্লুডি ও পুরসভার তরফে একটি যৌথ পরিদর্শন হয়েছে। কল্যাণ চক্রবর্তী বলেন, ‘ভোটের আগে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা পূরণ করাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।’