সংবাদদাতা, বালুরঘাট: বালুরঘাট পুরসভায় হাউজ ফর অল প্রকল্পে এবার অনিয়মের অভিযোগ উঠল। যোগ্যদের বঞ্চিত করে অযোগ্যদের ঘর পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এই প্রকল্পে স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন বালুরঘাটের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক বিদ্যুৎ রায়। এবার এই প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখলেন তিনি। গত পাঁচ বছরে এই প্রকল্পে কতজন ঘর পেয়েছেন, সেই তালিকাও বিধায়ক চেয়ে পাঠিয়েছেন। দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসককে বিষয়টি জানানো হয়েছে। যদিও তৃণমূল পরিচালিত বর্তমান পুরবোর্ড বিজেপি বিধায়কের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বালুরঘাট পুরসভা কর্তৃপক্ষের দাবি, তদন্ত হতেই পারে। তা নিয়ে কোনো আপত্তি নেই। তবে, অনেকে প্রথম কিস্তির টাকা পেলেও দ্বিতীয়টি পাননি। সেই বিষয়টিও দেখার জন্য বিজেপি বিধায়ককে অনুরোধ জানিয়েছে পুরসভা। নবনির্বাচিত বিধায়ক বিদ্যুৎ বলেন, আমাদের কাছে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে। শহরে হাউজ ফর অল প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে। স্বজনপোষণও কম হয়নি। ফলে যাঁদের পাকা ঘর পাওয়ার কথা, তাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছি। গত পাঁচ বছরে কারা কারা ঘর পেয়েছেন, তার তালিকাও জেলা প্রশাসনের কাছে চেয়েছি।পুরসভার চেয়ারম্যান সুরজিৎ সাহার বক্তব্য, দুর্নীতি হয়েছে কিনা, তা আমাদের জানা নেই। কয়েকমাস আগে পুরসভার দায়িত্ব নিয়েছি। এই সময়ে একজন অযোগ্যকেও ঘর দেওয়া হয়নি। তবে বিধায়ক চাইলে তদন্ত করতে পারেন। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কমিটি গড়ে তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে পুর চেয়ারম্যানের দাবি, অনেকে প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছেন। কিন্তু দ্বিতীয় কিস্তি পাননি। সেই বিষয়টিও বিধায়ক তথা রাজ্যকে দেখার অনুরোধ করব। বালুরঘাট পুরসভায় ২০১৩ থেকে ’১৮ সাল পর্যন্ত তৃণমূল পরিচালিত বোর্ড ছিল। পরবর্তী চার বছর ছিল পুরপ্রশাসক। ২০২২ সালে ফের তৃণমূল পরিচালিত বোর্ড গঠন হয়। ২০২১ থেকে ’২৬ সাল পর্যন্ত হাউজ ফর অল প্রকল্পে কতজন এবং কারা ঘর পেয়েছেন, সেই তালিকা প্রকাশের দাবি তুলেছেন বালুরঘাটের বিধায়ক। তাঁর দাবি, দেখা গিয়েছে অনেক ক্ষেত্রে অযোগ্যরা ঘর পেয়েছেন। যাঁদের পাকা বাড়ি আছে, তাঁরাও পেয়েছেন। এর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সেই দাবি জানিয়েছি।
বালুরঘাট শহরজুড়ে হাউজ ফর অল প্রকল্পে নানা অভিযোগ আগেও উঠেছিল। পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন কাউন্সিলার এবং তৃণমূল ঘনিষ্ঠরা এই সুবিধা পেয়েছেন। সেই অভিযোগের পর রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছিল। রাজ্যে তৃণমূল সরকার থাকায় সেই অভিযোগ পরবর্তীকালে ধামাচাপা পড়ে যায়। সরকার বদল হতেই সেই দুর্নীতির ফাইল খুলতে চলেছে।