Bartaman Logo
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কেশপুরে ঢুকতে পারছেন না বিধায়ক শিউলি সাহা, সমস্যায় এলাকাবাসী

৫০ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতেও নিজের বিধানসভা এলাকায় ঢুকতে পারছেন না তৃণমূলের শিউলি সাহা। অভিযোগ, শিউলি কেশপুরে পা রাখলেই উঠছে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান।

কেশপুরে ঢুকতে পারছেন না বিধায়ক শিউলি সাহা, সমস্যায় এলাকাবাসী
  • ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কেশপুর: ৫০ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতেও নিজের বিধানসভা এলাকায় ঢুকতে পারছেন না তৃণমূলের শিউলি সাহা। অভিযোগ, শিউলি কেশপুরে পা রাখলেই উঠছে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। ডিম ছোড়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। ফলে বিধায়কের সঙ্গে দেখা করা তো দূরের কথা, সরকারি পরিষেবা সংক্রান্ত কাজেও সাধারণ মানুষকে ছুটতে হচ্ছে কলকাতায়। কেশপুরের এই ছবি ঘিরেই এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক হানাহানি নিয়ে।

Advertisement

কেশপুর পশ্চিম মেদিনীপুরের রাজনৈতিক অভিধানে আতঙ্কের প্রতিশব্দ। একসময় গুলি-বোমার শব্দে ঘুম ভাঙত এই এলাকার বাসিন্দাদের। কেশপুরে রাজনৈতিক সংঘর্ষের ইতিহাস দীর্ঘ। বাম আমলে বারবার হিংসার খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে এই এলাকা। পালাবদলের সঙ্গে বদলেছিল কেশপুরের রাজনৈতিক সমীকরণও। ধীরে ধীরে তৃণমূলের দখলে চলে যায় বিধানসভা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং রাজনৈতিক সংঘাত নতুন মাত্রা পায়। এবার বিধানসভা ভোটে রাজ্যে ফের পালাবদল ঘটেছে। গেরুয়া রঙে ঢেকেছে পশ্চিমবঙ্গ। কিন্তু কেশপুরে তৃণমূলের জয় আটকায়নি। শিউলি সাহা বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। কিন্তু অভিযোগ, জয়ের পরেও নিজের বিধানসভা এলাকায় যেতে পারছেন না তিনি। ভোটের পর একবার দিলীপ ঘোষের উপস্থিতিতে একটি কর্মসূচিতে এবং পরে মোহবনীতে শুভেন্দু অধিকারীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন বিধায়ক। অভিযোগ, সেখানে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান ওঠে। শেষ পর্যন্ত কেশপুর ছেড়ে ফিরে আসতে হয় তাঁকে। শিউলি সাহার কথায়, আগেও কেশপুরের মানুষের পাশে ছিলাম, এখনও আছি। কিন্তু আমাদের কর্মীদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। বিজেপির নেতাদের কাছে অনুরোধ করেছি। আমাকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। গেলেই গো ব্যাক স্লোগান, ডিম মারার কথা বলছে। এর ফলে কেশপুরের মানুষকেই ভীষণ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, কেশপুরজুড়ে এখনও প্রতিদিনই অশান্তির পরিবেশ। কোথাও বিজেপির নিজেদের মধ্যে বিবাদ, কোথাও আবার তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে হামলার অভিযোগ। রাত নামলেই শুরু হচ্ছে উত্তেজনা। অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূল নেতাদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। অনেককে সামাজিকভাবে বয়কটও করা হয়েছে বলে দাবি।
অন্যদিকে, বিজেপির পাল্টা দাবি, বিধায়ক নিজেই মানুষের পাশে দাঁড়াননি। কেশপুরের বিজেপি নেত্রী সোনালী ওঝার প্রশ্ন, ওঁকে কে বাধা দিয়েছে? উনি কাজ করেননি, তাই ভয় পাচ্ছেন আসতে। উনি এসে কাজ করুন। শুনেছি, কেউ দোষ করলে ভয় পায়। উনি নিশ্চই ভুল কিছু করেছেন। তবে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝখানে সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কেশপুরের বাসিন্দা চন্দন মণ্ডলের কথায়, কেশপুর থেকে কলকাতার দূরত্ব প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। বিধায়কের সই নিতে গেলেও এত দূরে যেতে হচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ